স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মারধরের ঘটনায় ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং স্থানীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও আইনের শাসনের ভয়াবহ অবক্ষয়ের নগ্ন প্রতিফলন।
আব্দুল মোতালিব (৬৪) নামের এই বৃদ্ধের করুণ মৃত্যু জনমনে ক্ষোভ, আতঙ্ক এবং গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন মেম্বার প্রকাশ্যে আব্দুল মোতালিবের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালান। একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে যেখানে ন্যায়বিচার ও সহমর্মিতা প্রত্যাশিত, সেখানে তার হাতেই একজন বৃদ্ধকে মারধরের অভিযোগ নিঃসন্দেহে চরম নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে পাওনা টাকা না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত আব্দুল মোতালিব শুক্রবার ভোরে বিষয়টি জানতে চাইলে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে তার ওপর হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া এবং কিল-ঘুষি মারার ফলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই মৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়; এটি একটি সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড, যার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জরুরি।
এমন ঘটনায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—আইনের প্রতি এক ধরনের প্রকাশ্য অবজ্ঞা। একজন ইউপি সদস্য যদি নিজেই আইন হাতে তুলে নেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় গিয়ে ন্যায়বিচার চাইবে ?
এ ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে, স্থানীয় পর্যায়ে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে মনে করছেন, যা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত ও গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়া হলেও অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, অনেক সময় এসব ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়। তাই এই ঘটনার ক্ষেত্রেও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে।
এই নির্মম ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী ও সচেতন মহলকে সোচ্চার হতে হবে। অন্যথায়, এমন বর্বরতা সমাজে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হবে—যা কোনো সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না।









Discussion about this post