আড়াইহাজারে চিকিৎসকের ওপর নৃশংস হামলা : স্বাস্থ্যসেবায় সন্ত্রাসের নগ্ন থাবা
স্টাফ রিপোর্টার ;
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত এক চিকিৎসকের ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পুরো স্বাস্থ্যখাত আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একদল ব্যক্তি জরুরি বিভাগে ঢুকে চিকিৎসককে বেধড়ক মারধর করেছে—যা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং চিকিৎসা সেবার নিরাপত্তাহীনতার ভয়াবহ চিত্র।
গত ৫ জুলাই সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় আহত হন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল কামাল, যিনি ওই সময় জরুরি বিভাগের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে তার স্ত্রী মনোয়ারা আক্তার বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়ার ছেলে, ভাইসহ মোট ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ইনজেকশন প্রয়োগে সামান্য বিলম্বকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতণ্ডা, এরপর সংঘবদ্ধভাবে হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসকের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার সময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে আরও কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী আহত হন—যা প্রমাণ করে হামলাটি ছিল পরিকল্পিত ও বেপরোয়া।
এই ঘটনা কেবল একজন চিকিৎসকের ওপর হামলা নয়; এটি পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। যেখানে জীবন বাঁচানোর দায়িত্বে থাকা একজন চিকিৎসক নিজেই জীবন বাঁচাতে লড়ছেন, সেখানে সাধারণ রোগীদের নিরাপত্তা কোথায়? প্রশ্ন উঠছে—হাসপাতাল কি এখন চিকিৎসার জায়গা, নাকি প্রভাবশালীদের শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ ?
অভিযুক্ত পক্ষ অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, চিকিৎসকের অবহেলা ও অসদাচরণের কারণেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—কোনো অভিযোগ থাকলে তার প্রতিকার আইনি পথে সম্ভব, হাসপাতালের ভেতরে হামলা চালানো কোন আইনের আওতায় পড়ে ?
আড়াইহাজার থানার ওসি জানিয়েছেন, মামলার পর এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি, তবে অভিযান চলছে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে এমন মামলায় গ্রেপ্তার ও বিচার প্রায়ই ধীরগতির হয়—যা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তোলে।
স্বাস্থ্যখাতে এ ধরনের হামলা নতুন নয়। বারবার একই চিত্র—চিকিৎসকের ওপর হামলা, তারপর মামলা, এরপর ধীরগতির বিচার। ফলে চিকিৎসকরা দিন দিন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে রোগী সেবায়।
এই ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে, হাসপাতালগুলো ধীরে ধীরে ‘ঝুঁকিপূর্ণ জোন’-এ পরিণত হবে—যেখানে চিকিৎসা নয়, বরং ভয় ও অনিশ্চয়তাই হবে প্রধান বাস্তবতা। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখনই কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি, নয়তো এই নীরব সন্ত্রাস একসময় পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেই ভেঙে ফেলবে।









Discussion about this post