টোলপ্লাজার সামনে দুঃসাহসিক ডাকাতি—নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার স্পষ্ট বার্তা
স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটে, তাও আবার মেঘনা টোলপ্লাজার সামনে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে—জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নাজুক অবস্থায় পৌঁছেছে। যেখানে দিনে-দুপুরে কিংবা সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ চলাচল করে ভয় নিয়ে, সেখানে প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা এখন সময়ের দাবি।
বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাপান প্রবাসী আরমান (৪০) তার স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ফেনী থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলে মেঘনা টোলপ্লাজা সংলগ্ন এলাকায় ৫-৬ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল তাদের গাড়ির গতিরোধ করে। দেশীয় অস্ত্র—চাপাতি, ছুরি ও লোহার রড হাতে সজ্জিত দুর্বৃত্তরা মুহূর্তেই আতঙ্ক সৃষ্টি করে প্রবাসী পরিবারটির ওপর হামলে পড়ে।
ডাকাতরা নির্মমভাবে মারধর করে আরমান ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার (যার মূল্য ৩০ লাখ টাকার বেশি), একটি আইফোন-১৬ প্রো ম্যাক্সসহ তিনটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা লুটে নেয়। এ ধরনের সংগঠিত ও পরিকল্পিত হামলা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি পুরো এলাকায় অপরাধচক্রের দৌরাত্ম্যের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক মোটরসাইকেল আরোহীর বক্তব্য আরও উদ্বেগজনক।
তিনি জানান, সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের অবস্থান দেখে তিনি নিজেই ভয়ে সামনে এগোতে সাহস পাননি।
তার এই ভয়ই প্রমাণ করে—মহাসড়ক এখন সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ নয়, বরং অপরাধীদের জন্য উন্মুক্ত অভয়ারণ্য।
এদিকে ঘটনাস্থল নিয়ে দুই থানার পুলিশের বক্তব্যে দেখা গেছে বিভ্রান্তি ও দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি দাবি করেছেন, ঘটনাটি মহাসড়কে নয়, পাশের সড়কে ঘটেছে।
অপরদিকে সোনারগাঁ থানার ওসি স্বীকার করেছেন, এটি চেকপোস্টের সামনেই ঘটেছে বলে শুনেছেন, তবে বিস্তারিত জানাতে অপারগ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন অস্পষ্ট ও দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থান জনগণের আস্থাকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে।
প্রশ্ন উঠছে—যেখানে টোলপ্লাজা ও চেকপোস্টের মতো নিরাপত্তা সংবেদনশীল এলাকায় এমন দুঃসাহসিক ডাকাতি সংঘটিত হয়, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অপরাধীদের দৌরাত্ম্য রোধে নিয়মিত টহল, কার্যকর চেকপোস্ট এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা জরুরি।
অন্যথায়, সড়কপথে চলাচলকারী প্রতিটি মানুষই হয়ে উঠবে সম্ভাব্য শিকার—আর নারায়ণগঞ্জ ধীরে ধীরে পরিণত হবে অপরাধের নিরাপদ অভয়ারণ্যে।









Discussion about this post