ওসমান পরিবারের ‘অর্থসাম্রাজ্য’ এখন বিএনপির নিয়ন্ত্রণে? বিদেশে টাকা পাচারের গুরুতর অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ওসমান পরিবারের প্রভাব-প্রতিপত্তি, লুটপাট ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি করেছেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও নিহত তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি। তার দাবি—ওসমান পরিবারের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান এখন বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মীর দখলে, আর সেই অর্থ বিদেশে পাচার করে ঘাতকদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় নগরীর আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে ত্বকী হত্যার ১৬০ মাস উপলক্ষে আয়োজিত আলোক-প্রজ্বালন কর্মসূচিতে রাব্বি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে ভয়াবহ এক চিত্র—ক্ষমতার পালাবদল হলেও বদলায়নি দখলদারিত্ব ও অর্থনৈতিক সন্ত্রাসের ধারা।
রাব্বি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, ওসমান পরিবারের নিয়ন্ত্রিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখন বিএনপির একটি অংশের হাতে চলে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সংগৃহীত অর্থ বিদেশে পাঠানো হচ্ছে, যা দিয়ে কথিত ঘাতকদের অর্থায়ন করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সেই অর্থ ব্যবহার করে দেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিছিল-সমাবেশও করানো হচ্ছে বলে দাবি তার।
তিনি আরও বলেন, পরিবহন, হাটবাজার, ঘাট, স্ট্যান্ড—প্রতিটি খাতেই চলছে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি। “ওসমান পরিবারের লুটপাটের প্রতিটি ক্ষেত্র এখন বিএনপির নিয়ন্ত্রণে,”—এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবকিছু জানলেও কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছে।
রাব্বির ভাষায়, “আমরা এক দখলদারকে সরিয়ে আরেক দখলদার চাইনি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে—দখল আর চাঁদাবাজির চরিত্র বদলায়নি, শুধু হাত বদল হয়েছে।” তার এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়, নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক প্রভাবের আড়ালে অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের লড়াই কতটা গভীরে প্রোথিত।
তিনি অতীতের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ত্বকী হত্যাসহ একাধিক নৃশংস ঘটনার বিচার এখনো হয়নি। বরং সেই অপরাধীদের রক্ষা ও পুনর্বাসনের অভিযোগ বারবার উঠে এসেছে। তার দাবি, বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।
রাব্বি সরকারের প্রতিও বার্তা দিয়ে বলেন, এখনো জনগণ পরিবর্তনের আশায় আছে। “আমরা এখনো এই সরকারের প্রতি আস্থা রাখতে চাই, কিন্তু সেই আস্থার প্রমাণ দিতে হবে বিচার নিশ্চিত করে,”—বলেন তিনি। একইসঙ্গে ত্বকী হত্যা, সাগর-রুনী, তনু ও অন্যান্য আলোচিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুই দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। সেই হত্যাকাণ্ড এখনো বিচারহীন অবস্থায় রয়েছে, যা নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে এক দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত হিসেবে রয়ে গেছে।
নতুন করে ওঠা এই অভিযোগগুলো শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আঘাত নয়—বরং একটি বড় প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে: ক্ষমতা বদলালেও কি নারায়ণগঞ্জে দখল, চাঁদাবাজি ও অর্থপাচারের চক্র অটুটই থাকছে?









Discussion about this post