নারায়ণগঞ্জে কালী মন্দিরে ভাঙচুর: যুবক আটক, মানসিক অসুস্থতার দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার কয়েক গজের মধ্যে অবস্থিত শ্রী শ্রী দরিদ্র ভান্ডার কালী মন্দিরে কাঠাম পূজার সময় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ইয়ামিন নাবিল নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন মন্দিরে উপস্থিত লোকজন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে মন্দির প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
আটক ইয়ামিন নাবিল বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম নূর মোহাম্মদ।
মন্দিরের পুরোহিত কমল চক্রবর্তী জানান, দুর্গাপূজার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দুপুরে কাঠাম পূজার আয়োজন করা হয়েছিল। এ সময় ওই যুবক মন্দিরে প্রবেশ করে ‘আল্লাহ পূজা নিষেধ করেছেন’ বলে পূজার সামগ্রীতে লাথি মারেন এবং উপস্থিত কয়েকজনকে ধাক্কা দেন। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছে। এ ধরনের ঘটনা এর আগে ঘটেনি। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
ঘটনার পর আটক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের সময় কিছুটা উত্তেজনা ও ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। আটক ইয়ামিন নাবিল এ সময় পূজাকে ‘শিরক’ উল্লেখ করে তার বিরোধিতা করেন।
এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিক জানান, ইয়ামিন নাবিল নয়ামাটির একটি পোশাক কারখানায় তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করেন। তাদের দাবি, পূর্বে তার মধ্যে মানসিক অসুস্থতার কোনো লক্ষণ তারা লক্ষ্য করেননি।
তবে ইয়ামিন নাবিলের বড় ভাই অমিত হাসান দাবি করেছেন, তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে সিজোফ্রেনিয়ায় ভুগছেন। তিনি এ বিষয়ে চিকিৎসাসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনও পুলিশকে দেখিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার কর্মকর্তারা জানান, আটক যুবক মানসিকভাবে অসুস্থ কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। এখনো এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।









Discussion about this post