নারায়ণগঞ্জে বিতর্কের ঝড় তুলে যশোরের ‘জঙ্গি নাটক’-এর অভিযুক্ত সেই আনিস
স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে বিতর্কের ঝড় তোলা সাবেক পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানকে ঘিরে পুরনো অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে।
যশোরে বহুল আলোচিত ‘জঙ্গি নাটক’ মামলার ভুক্তভোগীরা দীর্ঘ ৯ বছর পর আদালতে খালাস পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগগুলো আবার আলোচনায় এসেছে।
নারায়ণগঞ্জে তার কর্মকাণ্ড নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের স্মৃতি এখনো তাজা।
২০১৮ সালের ২০ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন আনিসুর রহমান।
তার আগেই যশোরে দায়িত্ব পালনকালে নানা বিতর্কে জড়ান তিনি।
নারায়ণগঞ্জে যোগদানের পরও সেই ধারা অব্যাহত থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। মাত্র তিন মাসের দায়িত্বকালেই ক্রসফায়ারের নামে একাধিক হত্যাকাণ্ড, ব্যবসায়ীদের তুলে নিয়ে চাঁদাবাজি এবং ভয়ভীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, ওই সময় নারায়ণগঞ্জে এক ধরনের আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল।
‘ক্রসফায়ার’ আতঙ্কে অনেকেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। এসব ঘটনায় গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ২৭ নভেম্বর তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে বদলি করা হয়।
এদিকে যশোরে তার দায়িত্বকালীন সময়ের একটি বহুল আলোচিত ‘জঙ্গি’ মামলা সম্প্রতি আদালতে ভেঙে পড়েছে। চারটি পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা ওই মামলায় ভুক্তভোগীরা দীর্ঘ ৯ বছর হয়রানির পর নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পেয়েছেন।
তাদের অভিযোগ—এই মামলার নেপথ্যে মূল ভূমিকা ছিল তৎকালীন পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৫-২০১৬ সালে ডিবি পুলিশ রাতের আঁধারে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের তুলে নিয়ে যেত, নির্যাতন করত এবং ‘জঙ্গি’ স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দিত। নারী ও শিশুদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি। কেউ কেউ জেলখানায় বসে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়েছেন, আবার কেউ চাকরি ও স্বাভাবিক জীবন হারিয়েছেন।
মামলার আরেক অভিযোগে বলা হয়, বিএনপির কর্মী আবু সাঈদকে ‘ক্রসফায়ার’-এর নামে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের স্ত্রী। আদালত বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
আইনজীবীদের মতে, দুর্বল প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক চাপের কারণে মামলাগুলো দীর্ঘদিন চলেছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, এই সময়ের মানসিক ও সামাজিক ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণযোগ্য নয়।
পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে আনিসুর রহমানকে ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহলের প্রশ্ন—যশোরে যেসব অভিযোগ আজ প্রমাণিতভাবে ভেঙে পড়েছে, সেসব কর্মকাণ্ডের ছাপ কি নারায়ণগঞ্জেও পড়েনি ? এখানকার অভিযোগগুলোরও কি নিরপেক্ষ তদন্ত হবে ?
স্থানীয়রা মনে করছেন, যশোরের ঘটনাগুলো নতুন করে সামনে আসায় নারায়ণগঞ্জে তার কর্মকাণ্ড নিয়েও পুনরায় তদন্ত হওয়া উচিত। এতে সত্য উদঘাটন হলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পেতে পারেন।









Discussion about this post