রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ‘বিতর্কিত’ উপস্থিতি, শিখন সরকারকে বের করে দিলেন বিএনপি নেতারা
নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জে একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বিতর্কের জন্ম দিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা পূজা উদযাপন কমিটির নেতা শিখন সরকার শিপন।
শেষ পর্যন্ত বিএনপি নেতাদের আপত্তির মুখে তাকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়া হয়।
বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে শহরের দেওভোগ সরকারি প্রাথমিক বালক-বালিকা বিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক’ প্রদান অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কেন্দ্রীয় আয়োজনের সঙ্গে সারাদেশে একযোগে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমপি আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির এবং পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শিখন সরকার বিভিন্ন অতিথির সঙ্গে বারবার ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, যা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়।
এক পর্যায়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আমিনুর ইসলাম মিঠু তার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাকে ‘বিতর্কিত ব্যক্তি’ আখ্যা দিয়ে অনুষ্ঠান ত্যাগ করতে বলেন।
এ সময় শিখন সরকার সামনের সারিতে বসার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে উপস্থিত অন্যান্যরা তাকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেন। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি অংশ এই ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও, শিখন সরকারকে ঘিরে দলটির অভ্যন্তরে বিভাজনের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শিখন সরকার শিপন ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তিনি রাজনৈতিক অবস্থান বদলে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অতীতে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দলে অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করছে।
একই সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু নেতার মধ্যেও শিখন সরকারকে নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, শিখন সরকার শিপন দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের পদ পদবী নিয়ে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
২০১৩ সালে ঘোষিত কমিটিতে তিনি সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।
তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তার অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।









Discussion about this post