নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে পারিবারিক মনোমালিন্যের পর বৃষ্টি (১৮) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, কিস্তির টাকা দিতে না পারায় জামিনদার খালা-শাশুড়ির সঙ্গে মনোমালিন্যের একপর্যায়ে অভিমান করে তিনি আত্মহত্যা করেন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে ফতুল্লা পোস্ট অফিস রোডের কবরস্থান রোডের খোসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বৃষ্টি ওই এলাকার কিবরিয়ার স্ত্রী। তাঁদের দেড় বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তাঁদের গ্রামের বাড়ি বরিশালে।
নিহতের স্বামী কিবরিয়ার ভাষ্য, বৃষ্টির নামে ‘বিজ’ সমিতি থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল। প্রতি সপ্তাহে এর কিস্তি ছিল ২ হাজার ২০০ টাকা। মঙ্গলবার সমিতির মাঠকর্মী শামীমা কিস্তির টাকা নিতে তাঁদের বাসায় আসেন। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় তিনি বৃষ্টির ঋণের জামিনদার তাঁর খালা-শাশুড়ির কাছে বিষয়টি জানান।
কিবরিয়ার দাবি, বিষয়টি জানার পর তাঁর স্ত্রীর খালা-শাশুড়ি বৃষ্টির সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এতে বৃষ্টি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং একপর্যায়ে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।
তিনি জানান, বাসায় ফিরে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে বৃষ্টিকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে দরজা খুলে তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরে ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইমরান হোসেন তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের ভাষ্য, বৃষ্টিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—কিস্তির অর্থ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে সৃষ্ট পারিবারিক ও মানসিক চাপই কি বৃষ্টির মৃত্যুর পেছনে ভূমিকা রেখেছে, নাকি এর সঙ্গে অন্য কোনো কারণও ছিল ?
পরিবারের অভিযোগ এবং সমিতি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে পুলিশের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি ঋণগ্রহীতাদের ওপর কিস্তি আদায়ের প্রক্রিয়া, জামিনদারের ভূমিকা এবং আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারগুলোর ওপর এর সামাজিক ও মানসিক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
বৃষ্টির আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর দেড় বছরের শিশুসন্তান মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হলো। একই সঙ্গে ঘটনাটি ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থায় কিস্তি আদায়ের পদ্ধতি এবং ঋণগ্রহীতাদের মানসিক ও পারিবারিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখার প্রয়োজনীয়তাও সামনে নিয়ে এসেছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।









Discussion about this post