নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ইসদাইর এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পরিচিত ‘রাজ্জাক বাহিনী’র প্রধান আব্দুর রাজ্জাক ও তার সহযোগী সোহেলকে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে র্যাব-৩ ও র্যাব-১১-এর যৌথ অভিযানে ঢাকার একটি এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
পরে রাতেই দুজনকে ফতুল্লা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম হোসেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সর্বশেষ চাষাঢ়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলাতেও তিনি আসামি। একই ঘটনায় তার সহযোগী সোহেলকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বুধবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ইসদাইরে দীর্ঘদিনের অভিযোগ
ইসদাইর এলাকায় রাজ্জাককে ঘিরে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ নতুন নয়। স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে কয়েক বছর ধরেই ‘রাজ্জাক বাহিনী’ নামে একটি গ্রুপের তৎপরতার কথা উঠে এসেছে। ২০২২ সালে ইসদাইরে শামীম নামে এক যুবক হত্যার ঘটনাতেও সংবাদমাধ্যমে রাজ্জাক বাহিনীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রকাশিত হয়।
চলতি আগস্টেও ইসদাইর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে মাদক কারবারিদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ১৫ আগস্টের ওই ঘটনায় পুলিশ সদস্যরা আহত হন এবং রাজ্জাকের ছেলে জসিমসহ দুজনকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, জসিমের কাছ থেকে একটি গুলিভর্তি পিস্তলও উদ্ধার করা হয়।
এদিকে ১৬ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ইসদাইরে রাজ্জাককে ঘিরে মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হয়।
পুলিশের ওপর হামলার মামলাতেও আসামি
ফতুল্লা থানার এসআই শামীম হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজ্জাকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মাদক ও অস্ত্র-সংক্রান্ত মামলার পাশাপাশি হত্যা মামলাও রয়েছে। সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায়ও তার নাম রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানগুলোতে ইসদাইর ও আশপাশের এলাকায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যেই কথিত ‘রাজ্জাক বাহিনী’র প্রধানকে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে আটকের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতে বিচারাধীন বিষয়। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাগুলোতে তদন্তের পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









Discussion about this post