সিদ্ধিরগঞ্জে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল দুজনের
লরির ধাক্কায় মিষ্টির দোকানের কর্মচারী নিহত, মহাসড়কে কাভার্ড ভ্যানে লেগুনার ধাক্কায় মারা গেলেন যাত্রী; আহত আরও একজন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ :
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুজনের প্রাণ গেছে। একটি ঘটনায় সড়ক পার হওয়ার সময় জ্বালানি তেলবাহী লরির ধাক্কায় মিষ্টির দোকানের এক কর্মচারী নিহত হয়েছেন।
অপর ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কাভার্ড ভ্যানের পেছনে যাত্রীবাহী লেগুনার সজোরে ধাক্কায় এক যাত্রী নিহত এবং আরও একজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় প্রথম দুর্ঘটনায় হারাধন চন্দ্র দত্ত (৪৫) নিহত হন। কয়েক ঘণ্টা পর শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরে সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় দ্বিতীয় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান লেগুনার যাত্রী শাহাদাত হোসেন (৩৫)।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে শিমরাইল-আদমজী-চাষাড়া লিংক রোডের সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ সময় হারাধন চন্দ্র দত্ত সড়ক পার হচ্ছিলেন। তখন দ্রুতগতিতে আসা একটি লরি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
নিহত হারাধন চন্দ্র দত্ত কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালি থানার পশ্চিম মাঝিঘাট এলাকার ভারত চন্দ্র দত্তের ছেলে। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জের সিআইখোলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং স্থানীয় প্রাণ ভল্লব মিষ্টির দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
বিভিন্ন সূত্রে দুর্ঘটনায় জড়িত যানটিকে তেলের লরি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও সেটি শনাক্ত এবং চালককে আটকের বিষয়ে তখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর কয়েক ঘণ্টা পর শুক্রবার ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় ঘটে দ্বিতীয় দুর্ঘটনা। শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকাগামী লেনে মহাসড়কের পাশে একটি কাভার্ড ভ্যান দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় পেছন দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী একটি লেগুনা দ্রুতগতিতে কাভার্ড ভ্যানটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়।
সংঘর্ষে লেগুনার চালকের পাশে বসা যাত্রী শাহাদাত হোসেন ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ ঘটনায় লেগুনার আরও একজন যাত্রী আহত হন। স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।
দুর্ঘটনার পর লেগুনার চালক গাড়িটি ঘটনাস্থলেই ফেলে পালিয়ে যান। শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত লেগুনা ও কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করে।
লেগুনাটির নম্বর নারায়ণগঞ্জ-চ-১১-০২৪০ এবং কাভার্ড ভ্যানটির নম্বর ঢাকা মেট্রো ট-২০-৩৩৬ উল্লেখ করা হয়েছে। পলাতক লেগুনাচালককে শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে বলে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ টিআই মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, সানারপাড় এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ড ভ্যানের পেছনে লেগুনাটি ধাক্কা দেয়। এতে একজন যাত্রী নিহত ও আরও একজন আহত হন। দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেলেও দুটি গাড়িই পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পৃথক দুই দুর্ঘটনার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একই এলাকায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এক ঘটনায় পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে যানবাহন চলে যাওয়ার অভিযোগ, অন্য ঘটনায় মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ড ভ্যানে দ্রুতগতির লেগুনার ধাক্কা—দুই ক্ষেত্রেই বেপরোয়া গতি ও সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি সামনে এসেছে। পুলিশ বলছে, পৃথক দুটি ঘটনারই তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।









Discussion about this post