স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ পাওয়া এক কলের ভিত্তিতে ছিনতাইকারীদের ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় দুর্বৃত্তদের হামলায় দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন এবং একটি সরকারি শর্টগান ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বন্দর থানার ওসি গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘রাতে পুলিশের নিয়মিত টহল চলাকালে ছিনতাইকারীরা হামলা চালিয়ে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
আজ শুক্রবার (১ মে) রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ১৫ মিনিটের মধ্যে বন্দর উপজেলার চৌধুরী বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মদনগঞ্জ ফাঁড়ির এএসআই সোহেল তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে নিয়মিত রাত্রীকালীন টহলে ছিলেন।
এ সময় ৯৯৯-এ একটি কল আসে, যেখানে জানানো হয় ওই এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীদের সহায়তায় একটি সন্দেহভাজন বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। তবে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করা মাত্রই ওত পেতে থাকা ছিনতাইকারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র—দা ও রামদা—নিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় এএসআই সোহেলের পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে এবং কনস্টেবল ফয়সালের পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে হামলাকারীরা পুলিশের সাথে থাকা একটি সরকারি শর্টগান ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
আহত দুই পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কনস্টেবল ফয়সালের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এএসআই সোহেল বর্তমানে শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং জড়িতদের ধরতে অভিযান জোরদার করেন। অভিযানের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন সোহান (২৪), তার পিতা আমির হোসেন, মা সালমা ও বড় ভাই সাব্বিরকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং ছিনিয়ে নেওয়া অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কতটা ঝুঁকির মুখে থাকেন এবং অপরাধ দমনে তাদের কার্যক্রম কতটা চ্যালেঞ্জিং।








Discussion about this post