শাহজাহান কবির, আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :
আশ্চর্যজনক হলেও সত্য—যে গ্রাম এক সময় ‘ডাকাতের গ্রাম’ নামে পরিচিত ছিল, সেই গ্রামেই এবার সংঘটিত হলো দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা।
আড়াইহাজার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের খেত মরদাসাদী গ্রামে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সংঘটিত এ ডাকাতির ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রাত আনুমানিক দুইটার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি মুখোশধারী ডাকাত দল সেলিনা নামে এক নারীর বসতঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
অস্ত্রের মুখে পরিবারের সকলকে জিম্মি করে ডাকাতরা নগদ এক লাখ টাকা এবং প্রায় দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার লুট করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। ভয়াবহ এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, মরদাসাদী গ্রামটি এক সময় ‘ডাকাতের গ্রাম’ হিসেবেই কুখ্যাত ছিল।
বিগত সরকারের আমলে এই কুখ্যাতি মুছে দিতে গ্রামের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘শান্তিপুর’।
কিন্তু নাম বদলালেও বাস্তবতা যে বদলায়নি, তারই নির্মম প্রমাণ মিলল এই ঘটনায়। বরং শান্তিপুরে এখন অশান্তির ছায়া আরও ঘনীভূত হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই গ্রামের ডাকাতরা আগে কখনো নিজেদের গ্রামেই ডাকাতি করত না বলে স্থানীয়দের দাবি। ফলে এবার নিজের গ্রামেই ডাকাতির ঘটনায় আড়াইহাজারবাসী রীতিমতো হতবাক।
এমনিতেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। তার ওপর ডাকাতের গ্রামেই ডাকাতি—আইনশৃঙ্খলার এই চরম ব্যর্থতা প্রশ্ন তুলে দিয়েছে প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাতে পুলিশের টহল কার্যকরভাবে জোরদার না হওয়ায় ডাকাতরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অবিলম্বে শক্ত ব্যবস্থা না নিলে ডাকাতির ঘটনা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে এবং ডাকাতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। তিনি আরও দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে তিনি নিয়মিত এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা করছেন এবং জনগণকে পাহারার বিষয়ে সতর্ক করছেন।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—শুধু সভা আর সতর্কবার্তায় কি ডাকাতির লাগাম টানা সম্ভব ? যখন ডাকাতের গ্রামেও মানুষ নিরাপদ নয়, তখন আড়াইহাজারের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে—এই প্রশ্ন এখন সর্বত্র।








Discussion about this post