স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রতিবেশীর ৯ মাসের শিশুকে তুলে নিয়ে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে।
তবে ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে ভিন্ন এক গল্প—পাওনা টাকা আদায়ের মরিয়া চেষ্টা, যা শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় অপরাধে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে উপজেলার বাগবের সিটি মার্কেট এলাকায় ঘটে এই ঘটনা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে এক দম্পতি একটি শিশুকে নিয়ে স্থানীয় একটি বিকাশ এজেন্টের দোকানে আসে।
সেখানে তারা ফোন করে ২৫ হাজার টাকা দাবি করে, যা পরবর্তীতে অপহরণের সূত্র হিসেবে সন্দেহের জন্ম দেয়।
বিকাশ এজেন্ট রুবেল মিয়ার সন্দেহ হলে তিনি সংশ্লিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করেন। তখনই জানা যায়, শিশুটি গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের আমলাব এলাকার বাসিন্দা জলিল মিয়ার ছেলে ওয়াসিত, যাকে অপহরণ করা হয়েছে।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তারা দ্রুত অভিযুক্ত নারীকে আটক করে গণধোলাই দেয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা স্বামী আশরাফুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
জিজ্ঞাসাবাদে আটক নারী দাবি করেন, জলিল মিয়ার কাছে তার ৫০ হাজার টাকা পাওনা ছিল।
বহুবার চেষ্টা করেও টাকা না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন। তার ভাষায়, “টাকা ফেরত পাওয়ার আর কোনো উপায় ছিল না।”
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, ব্যক্তিগত আর্থিক বিরোধ কখনোই এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যৌক্তিকতা তৈরি করতে পারে না। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
রূপগঞ্জ থানার ওসি সাবজেল হোসেন জানান, ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পলাতক অভিযুক্তকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করলো—ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা আর্থিক বিরোধ যখন আইনের বাইরে সমাধানের চেষ্টা করা হয়, তখন তা সমাজে নতুন সংকট ও অপরাধের জন্ম দেয়।









Discussion about this post