নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশজুড়ে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরির উদ্যোগে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এলেও, বাস্তবতার নির্মম প্রতিচ্ছবি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে নারায়ণগঞ্জে।
পুলিশের প্রস্তুত করা প্রাথমিক তালিকায় জেলায় অন্তত ৫০ জন চিহ্নিত চাঁদাবাজের নাম উঠে এসেছে—যা কেবল সংখ্যার দিক থেকে নয়, বরং তাদের প্রভাব ও বেপরোয়া কার্যক্রমের দিক থেকেও গভীর উদ্বেগজনক।
নারায়ণগঞ্জ এখন যেন চাঁদাবাজদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সড়ক, হাটবাজার, বাস-স্ট্যান্ড, নৌঘাট থেকে শুরু করে নির্মাণাধীন প্রতিটি প্রকল্প—সবখানেই তাদের খোলা আধিপত্য।
প্রকাশ্যেই চলছে চাঁদা আদায়, আর কেউ প্রতিবাদ করলেই নেমে আসে ভয়ংকর পরিণতি।
দোকানে তালা, ব্যবসা বন্ধ, এমনকি মারধর—সবই যেন এই সিন্ডিকেটের নিত্যদিনের অস্ত্র।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই চক্রের অধিকাংশ সদস্যই কোনো না কোনো রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় আশ্রিত। সরকার বদলালেই বদলে যায় তাদের পরিচয়, কিন্তু বন্ধ হয় না চাঁদাবাজি। বরং নতুন ক্ষমতার ছত্রছায়ায় আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে তারা। ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে এক শক্তিশালী দখলদার গোষ্ঠীর হাতে।
পুলিশের একাধিক সূত্র বলছে, চাঁদাবাজির এই বিশাল অর্থের একটি অংশ নিয়মিতভাবে পৌঁছে যায় কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতা ও দুর্নীতিগ্রস্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছেও। আর এই যোগসাজশই দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজদের অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছে। প্রশ্ন উঠছে—তাহলে এই দৌরাত্ম্যের পেছনে কারা মূল শক্তি ?
সরকারি নির্দেশনার পর দেশব্যাপী তালিকা তৈরির কাজ জোরদার হলেও, নারায়ণগঞ্জের বাস্তবতা বলছে—শুধু তালিকা করলেই হবে না, প্রয়োজন দৃশ্যমান ও কঠোর অভিযান। কারণ এখানে চাঁদাবাজি আর বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, এটি এখন সুসংগঠিত এক ‘অর্থনীতি’, যেখানে প্রতিদিন কোটি টাকার লেনদেন হয় ভয় ও দখলদারিত্বের মাধ্যমে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজি দমনে যদি দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে এটি ভবিষ্যতে আরও বড় নিরাপত্তা হুমকিতে রূপ নিতে পারে। সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন—এই দৌরাত্ম্যের শেষ কোথায় ?
এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের এই তালিকা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, নাকি আগের মতোই ফাইলবন্দী থেকে যায়—আর নারায়ণগঞ্জের মানুষকে বয়ে বেড়াতে হয় একই ভয়, একই দুঃসহ বাস্তবতা।









Discussion about this post