নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে মাদক, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ইকবাল প্রধান বাপ্পিকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তার বিরুদ্ধে কয়েকটি বৈষম্য বিরোধী মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে সদর থানা পুলিশ তাকে আটক করলে এলাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে সাধারণ মানুষ।
এর আগে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া লিখিত অভিযোগে উঠে আসে ভয়াবহ চিত্র।
অভিযোগে বলা হয়, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকে সয়লাব হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তরুণ সমাজ, ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে একটি প্রজন্মকে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গোগনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের মতো অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।
এই চক্রের অন্যতম হোতা হিসেবে ইকবাল প্রধান বাপ্পির নাম উল্লেখ করা হয়। তার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে তার ছোট ভাই টিপু, আলমগীরের ছেলে বিয়াদ ও সেতুসহ আরও কয়েকজন।
স্থানীয়দের দাবি, নতুন কোনো ভবন নির্মাণ করতে গেলেই বাপ্পি বাহিনীর চাঁদার খড়গ নেমে আসে। প্রতিবাদ করলেই তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তথাকথিত “টর্চার সেলে”, যেখানে চলে নির্মম নির্যাতন। একাধিক মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছিলেন তারা।
অভিযোগে আরও উঠে এসেছে, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী সালাউদ্দিন চৌধুরী বিটুর সহযোগিতায় এই অপরাধচক্র আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থের বিনিময়ে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই বছরের পর বছর ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল এই সিন্ডিকেট।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন ইকবাল প্রধান বাপ্পি। তিনি দাবি করেন, “আমি মাদকের সঙ্গে জড়িত—এটা প্রমাণ করুক। আমি একজন জনপ্রতিনিধি, কেউ ইচ্ছা করলেই অভিযোগ করতে পারে। প্রমাণ হলে তখনই বোঝা যাবে সত্য-মিথ্যা।”
কিন্তু এলাকাবাসীর ক্ষোভ থামেনি। দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও জনচাপের মুখে অবশেষে তাকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয়দের মতে, “দেরিতে হলেও এই গ্রেফতার সঠিক পদক্ষেপ।
এখন প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর শাস্তি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ জনপ্রতিনিধির পরিচয়ে অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে না পারে।”
গোগনগরের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল—যখন অপরাধী প্রভাবশালী হয়, তখন সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়।
এখন দেখার বিষয়, গ্রেফতারের পর আদৌ আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত হয়, নাকি আবারও কোনো অদৃশ্য প্রভাবের কাছে ন্যায়বিচার মুখ থুবড়ে পড়ে।









Discussion about this post