স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘ ১৬ মাস পর চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে।
অবশেষে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে হত্যার প্রমাণ মেলায় অপমৃত্যুর মামলা রূপ নিয়েছে হত্যা মামলায়। এই বিলম্বিত ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের বৈলারকান্দি এলাকার নাজমা আক্তারের মেয়ে জিদনী আক্তার (২৩) পরিকল্পিত নির্যাতন ও হত্যার শিকার হন। ২০২৩ সালের ৭ জুলাই পারিবারিকভাবে সুমন মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই শুরু হয় যৌতুকের নামে নির্মম নির্যাতন। একের পর এক টাকা, গরু ও উপঢৌকন দেওয়ার পরও থামেনি লোভী স্বামী ও তার পরিবারের পাশবিকতা।
অভিযোগে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসামিরা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী সুমন মিয়া নিজ হাতে জিদনীর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে সহায়তা করে—একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়।
ঘটনার পরপরই নিহতের পরিবার হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ না করে অপমৃত্যুর মামলা নেয়—যা এখন বড় ধরনের গাফিলতি হিসেবে প্রশ্নবিদ্ধ।
পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে শ্বাসরোধে মৃত্যুর প্রমাণ মিললে পুলিশের টনক নড়ে। অবশেষে গত বুধবার রাতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
এ ঘটনায় প্রধান আসামি স্বামী সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে ১৬ মাসের এই বিলম্ব—এটি কি শুধুই প্রশাসনিক অবহেলা, নাকি প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া—এমন প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের নৃশংস যৌতুক-নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড কখনোই বন্ধ হবে না।









Discussion about this post