নিজস্ব প্রতিবেদক :
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, নিয়ম-নীতিকে উপেক্ষা করে এবং প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজের ছাত্র সংসদের একটি বিতর্কিত কমিটি গঠন করা হয়েছে—এমন অভিযোগে তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
গত ৬ মে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ২৬ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এতে খন্দকার মো. সাদ্দাম হোসেনকে ভিপি, নুরুনাহার তিন্নিকে জিএস এবং হুসাইন মোহাম্মদ অন্তরকে এজিএস করা হয়।
তবে কমিটি ঘোষণার পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল প্রশ্নবিদ্ধ, অস্বচ্ছ এবং একপাক্ষিক—এমন অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—এই কমিটি অনুমোদনের কাগজে কলেজের পদাধিকারবলে সভাপতি, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের কোনো স্বাক্ষর নেই।
বরং সেখানে স্বাক্ষর করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং কলেজের অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া।
ফলে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে গুরুতর বৈধতা সংকট।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এটি কোনো নির্বাচিত কমিটি নয়—বরং ‘পছন্দের লোকদের বসিয়ে দেওয়া’ একটি সাজানো প্যানেল। গণতান্ত্রিক চর্চার নামে প্রহসন করে এই কমিটি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আরও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে জিএস পদে থাকা নুরুনাহার তিন্নির অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা।
জানা যায়, তিনি একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
এমন একজনকে হঠাৎ করে ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এনে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে এই ‘অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক’ কমিটিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। স্মারকলিপিতে তারা স্পষ্ট ভাষায় জানান—
“নির্বাচন ছাড়া কোনো কমিটি আমরা মানি না, মানবো না। এটি শিক্ষার্থীদের মতামতকে উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া একটি অবৈধ সিদ্ধান্ত।”
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে কলেজে ছাত্র সংসদের কোনো নির্বাচন আয়োজন করা হয়নি।
অথচ হঠাৎ করেই গোপনে, শিক্ষার্থীদের অজ্ঞাতে ‘সিলেকশন’ নামের প্রহসনের মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, যা তাদের অধিকার হরণ এবং গণতন্ত্রের চরম অবমাননা।
বর্তমানে পুরো পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
শিক্ষার্থীরা দ্রুত এই কমিটি বাতিল করে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
এখন দেখার বিষয়—প্রশাসন এই বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ কমিটির বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয়, নাকি শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো আবারও উপেক্ষিত থেকে যায়।









Discussion about this post