নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কোরবানি উপলক্ষে পশুর হাট বসানোকে কেন্দ্র করে আবারও সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে।
অভিযোগের তীর জেলা বিএনপির সদস্য আনোয়ার সাদাত সায়েম ও আশরাফুল হক রিপনের দিকে।
স্থানীয়দের দাবি—চাঁদা না পেয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে, যা প্রশাসনের উপস্থিতিতেই সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ সংগঠনের নেতারা সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, গোলাকান্দাইল এলাকায় পশুর হাট বসাতে গেলে তাদের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে হামলাকারীরা হাটের বাঁশ, খুঁটি ও অন্যান্য সরঞ্জাম কুপিয়ে নষ্ট করে এবং ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।
সংগঠনের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ লিখিত বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে আন্দোলন করেছি, আজ সেই আমরা চাঁদাবাজদের শিকার হচ্ছি। প্রশাসনের সামনেই আমাদের ওপর হামলা হয়েছে, কিন্তু কেউ তা প্রতিহত করেনি—এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একই এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আরেকটি হাট বসানোর স্বার্থেই সায়েম ও রিপনের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়। তাদের ভাষায়, “চাঁদা না দিলে হাট বসাতে দেওয়া হবে না”—এমন হুমকি বারবার দেওয়া হয়েছিল।
তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আনোয়ার সাদাত সায়েম এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে দাবি করেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান। তার বক্তব্য, “তালিকায় না থাকায় প্রশাসন হাট উচ্ছেদ করেছে। সেখানে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। আমরা কেবল এলাকাবাসী হিসেবে উপস্থিত ছিলাম।”
অন্যদিকে, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জানান, গোলাকান্দাইল এলাকার হাটটি সরকার অনুমোদিত তালিকায় ছিল না এবং মহাসড়কের পাশে হাট বসানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই প্রশাসন থেকে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—যদি এটি শুধুই প্রশাসনিক উচ্ছেদ হয়, তাহলে কেন হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠছে?
কেন প্রশাসনের উপস্থিতিতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আইনের শাসন কোথায় ?
স্থানীয়দের মতে, এটি কেবল একটি হাট নিয়ে বিরোধ নয়; বরং প্রভাব বিস্তার, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের একটি নগ্ন উদাহরণ। তারা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
রূপগঞ্জের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল—নিয়ন্ত্রণহীন রাজনৈতিক প্রভাব ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতি এখনও কতটা ভয়াবহ রূপে বিদ্যমান।
এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কতটা নিরপেক্ষভাবে এ ঘটনার সুরাহা করতে পারে।









Discussion about this post