ঈদযাত্রায় টিকেট জালিয়াতি: ভাড়া দ্বিগুণ নিয়ে উধাও বাস মালিক, নারায়ণগঞ্জে যাত্রী বিক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
প্রিয়জনের টানে ঘরে ফেরার আশায় টিকেট কেটেছিলেন শত শত মানুষ। কিন্তু সেই আশাই যেন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে নারায়ণগঞ্জে।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে টিকেট দেওয়ার পর বাস মালিক ও কাউন্টার ম্যানেজারদের আত্মগোপনের ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (রাত ৯টা থেকে) গভীর রাত ২ টা পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার চাঁনমারী এলাকায় প্রায় ৫ শতাধিক যাত্রী সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন। এতে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, রংপুর, জামালপুর, লালমনিরহাট ও ময়মনসিংহগামী বিভিন্ন পরিবহনের টিকেট স্বাভাবিক ভাড়ার দ্বিগুণে বিক্রি করা হয়।
জামালপুরগামী যাত্রীদের কাছ থেকে যেখানে ভাড়া নেওয়ার কথা ছিল ৬০০ টাকা, সেখানে নেওয়া হয়েছে ১২০০ টাকা করে। একইভাবে অন্যান্য রুটেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মালঞ্চ, সীমান্ত, বিআরটিসি ও নীলাচল পরিবহনসহ একাধিক বাস কাউন্টার থেকে এভাবে টিকেট বিক্রি করা হয়। নির্ধারিত সময় রাত ৯টায় বাস ছাড়ার কথা থাকলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও কোনো বাস না আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন যাত্রীরা।
রাত সাড়ে ১২ টার পর থেকে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষুব্ধ যাত্রীদের ভাষ্য, “পরিবারের সাথে ঈদ করতে বাড়ি ফিরবো—এই আশায় কষ্টের টাকা দিয়ে টিকেট কেটেছি। কিন্তু এখন আমরা পথে বসেছি। কেউ নেই, কোনো বাস নেই, টাকা নেওয়া লোকজনও উধাও।”
ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান ও ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা দীর্ঘ সময় ধরে যাত্রীদের শান্ত করার চেষ্টা চালান।
তবে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি আংশিক নিয়ন্ত্রণে এলেও অভিযুক্ত বাস মালিক ও কাউন্টার সংশ্লিষ্টদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, “নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে আছেন। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
এদিকে যাত্রীদের অভিযোগ, দূরপাল্লার পরিবহনে ভাড়া নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কোনো কার্যকর তদারকি নেই। এই সুযোগে একটি চক্র প্রতি ঈদেই সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে প্রতারণা করে আসছে।
মানুষের বাড়ি ফেরার আবেগকে পুঁজি করে এমন প্রতারণা রোধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।









Discussion about this post