স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারালেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক জোবায়ের (১৮)।
কিন্তু তার এই মৃত্যু শুধুমাত্র ছিনতাইকারীদের নির্মমতার ফল নয়—বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পুলিশের চরম অবহেলা, দায়িত্বহীনতা এবং অভিযোগ উঠেছে দুর্নীতিরও।
রোববার (৭ জুন) সকাল ৮টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জোবায়েরের মৃত্যু হয়। এর আগে ৩ জুন রাতে সোনাকান্দা এনায়েতনগর এলাকায় ওত পেতে থাকা চিহ্নিত ছিনতাইকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা প্রথমে নারায়ণগঞ্জ খানপুর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—ঘটনার পরপরই নিহতের পরিবার বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে।
অভিযোগ রয়েছে, মামলা নিতে অনীহা প্রকাশের পাশাপাশি অর্থ দাবির মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
নিহতের পরিবারের দাবি, অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করতে গেলে তাদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হয়েছিল।
একজন মুমূর্ষু তরুণ যখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন নিষ্ক্রিয়তা শুধু অমানবিকই নয়, বরং অপরাধীদের জন্য এক ধরনের নীরব প্রশ্রয়।
চার দিনেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া পুলিশের ব্যর্থতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
জোবায়েরের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই পুলিশের ‘তৎপরতা’ চোখে পড়ে।
তড়িঘড়ি করে অভিযান, গ্রেপ্তারের নাটকীয়তা—সবই যেন দায় এড়ানোর চেষ্টা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে স্থানীয় জনতা ও নিহতের স্বজনরা। বন্দর থানা প্রাঙ্গণ পরিণত হয় বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে।
আজ সন্ধ্যায় জোবায়ের মরদেহ বন্দর পৌঁছালে শতাধিক মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। এ সময় তারা থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি শুরুতেই পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা নিত, তাহলে কি জোবায়েরকে বাঁচানো যেত না? কেন অভিযোগ পাওয়ার পরও তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হলো না? কেন চার দিন সময় নষ্ট করা হলো ?
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধান অভিযুক্তকে পূর্বের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এখন তাকে এই হত্যাকাণ্ডে ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখানো হবে। তবে এই ব্যাখ্যা জনমনে সন্তোষজনক নয়। বরং এটি আরও একটি দায়সারা প্রচেষ্টা বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল—শুধু অপরাধীদের দৌরাত্ম্যই নয়, বরং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অবহেলাও অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের, তাদের এমন ব্যর্থতা শুধু উদ্বেগজনক নয়—বরং রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক।
অতএব, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
অন্যথায়, জোবায়েরের মতো আরও অনেক নিরীহ প্রাণ একইভাবে ঝরে পড়বে—আর বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।









Discussion about this post