নিজস্ব প্রতিবেদক:
দলের নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ারকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানায়।
গত ৮ জুন প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ারের বিরুদ্ধে পেশিশক্তি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি তাৎক্ষণিকভাবে তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বহিষ্কৃত ব্যক্তির কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না এবং দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে, নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে সহিংসতার ঘটনা ঘটায় পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফতুল্লা, বন্দর, আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ের পর এবার সিদ্ধিরগঞ্জে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সর্বশেষ ঘটনায়, বহিষ্কৃত যুবদল নেতা মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও নির্মম হামলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জাফরুল হাসান লিসান নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিজস্ব জমিতে দোকান নির্মাণ করতে গেলে তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রকাশ্য দিবালোকে তাকে লোহার শাবল দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, এত আলোচিত ঘটনার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা জনমনে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়িয়েছে।
আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্বে ডাকাতির একটি মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। ফলে এমন একজন ব্যক্তি কীভাবে পুনরায় অপরাধে জড়াচ্ছেন—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
ভুক্তভোগী মামলা দায়ের করলেও পুলিশ জানিয়েছে, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তবে এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন স্থানীয়রা। তাদের মতে, “খতিয়ে দেখা” এখন দীর্ঘসূত্রতা ও দায় এড়ানোর একটি পরিচিত অজুহাতে পরিণত হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—নারায়ণগঞ্জ কি সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে ?
রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেই কি অপরাধ করে পার পাওয়া যাচ্ছে? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা কি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ ?
বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে। অপরাধীরা আইনের তোয়াক্কা করছে না, কারণ দ্রুত বিচার বা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির কম।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্টদের দাবি, অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
তাদের মতে, রাষ্ট্রের নীরবতা যখন অপরাধীর সাহস বাড়ায়, তখন তা শুধু ব্যর্থতা নয়—বরং বিপজ্জনক উদাসীনতার প্রতিফলন।









Discussion about this post