স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে অপরাধচক্রের দৌরাত্ম্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের শাসনামলের কথিত ‘গডফাদার’ চক্রের ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা একাধিক অপরাধী এখনো সক্রিয় রয়েছে এবং তাদেরই একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসী ‘অভি’।
যিনি অস্ত্র, মাদক ব্যবসা এবং প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার পরও রহস্যজনকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাগালের বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই চিহ্নিত অপরাধীকে প্রায়ই ফতুল্লা থানায় অবাধে যাতায়াত এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের সায়হে আড্ডা করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, থানার একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, যা পুরো আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
অনেকের দাবি, গুলিবর্ষণ মামলার আসাম কুখ্যাত অপরাধী নয় লাইখ্যা ডাকাত সরদার মোহাম্মদ আলী ভাতিজা অভির আড্ডার স্থল হয়ে উঠেছে ফতুল্লা থানা। এমন দুঃসাহসের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
একজন অভিযুক্ত সন্ত্রাসীর এমন প্রকাশ্য বিচরণ শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়েই নয়, বরং জননিরাপত্তা নিয়েও বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে চাঁদনী হাউজিং এলাকা পরিণত হয়েছিল অপরাধের অভয়ারণ্যে।
সেখানে মাদক, অস্ত্র, পতিতাবৃত্তি এবং অবৈধ গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য পরিচালিত হতো।
‘পাগলা হামিদ’ নামের এক ব্যক্তি এই অপরাধ সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রক ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে তিনি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলে সেই শূন্যস্থান দখল করে নেয় নতুন করে উত্থান হওয়া সন্ত্রাসী চক্র, যার নেতৃত্বে উঠে আসে অভি।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এই অভি এখন পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। বিশেষ করে বিসিক শিল্পাঞ্চল ও পঞ্চবটি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, চাঁদাবাজি এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সম্প্রতি গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসা নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অভির নেতৃত্বে প্রকাশ্যে গুলি ছোড়া হয়, যাতে কয়েকজন আহত হয়—যাদের মধ্যে নিরীহ কিশোরও রয়েছে।
গত ৯ এপ্রিল চাঁদনী হাউজিং এলাকায় সংঘটিত সংঘর্ষে অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় যুবদল নেতা রনি, অভি ও তার সহযোগীদের আসামি করা হলেও, বাস্তবে তাদের চলাফেরায় কোনো ধরনের বাধা দেখা যাচ্ছে না।
বরং অভিযোগ উঠেছে, তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং থানার ভেতরেই অবস্থান করে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে।
রাজনৈতিক মহলও বিষয়টিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, একটি স্বার্থান্বেষী চক্র পরিকল্পিতভাবে শিল্পাঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে এবং একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এতে করে শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিই অবনতি হচ্ছে না, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তাও বাড়ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি দ্রুত এই ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তাহলে ফতুল্লাসহ আশপাশের এলাকায় অপরাধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
থানাকে ঘিরে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য এক গভীর আস্থার সংকট।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের দাবি—অভি ও তার সহযোগীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং থানার ভেতরে তাদের কথিত প্রভাব খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
অন্যথায় ‘অভি আতঙ্ক’ আরও বিস্তৃত হয়ে জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকিতে পরিণত হতে পারে।









Discussion about this post