আদালত প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলায় আবারও রিমান্ড মঞ্জুর হলেও বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে নতুন করে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
আজমেরী ওসমানের ড্রাইভার জামশেদ শেখকে দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত, যা তিন দিনের মধ্যে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—বারবার রিমান্ড, বারবার আবেদন, তবুও কেন এগোয় না তদন্ত ?
মামলার অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন জানান, গত ৪ জুন র্যাবের তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক চন্দ্র মজুমদার প্রথম দফায় রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত তখনই অনুমতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি “রাষ্ট্রীয় ডিউটির” অজুহাতে।
এ ব্যর্থতার দায় এড়াতে আবারও রিমান্ড আবেদন—যা বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ সকাল ১১টায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসির আরাফাতের আদালতে শুনানি শেষে জামশেদ শেখের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
কিন্তু এই রিমান্ড আদৌ তদন্তে কোনো অগ্রগতি আনবে, নাকি এটিও কেবল সময়ক্ষেপণের নতুন কৌশল—এ নিয়ে জনমনে তীব্র সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
মামলার বাদী ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি দীর্ঘদিন ধরে বিচারহীনতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
আদালতে তার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন, প্রদীপ ঘোষ বাবু ও জিয়াউল ইসলাম কাজল।
অথচ মামলার ১০৪তম তারিখ পার হলেও এখনো চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা র্যাব—যা এক নজিরবিহীন গাফিলতি বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ ত্বকী নিখোঁজ হওয়ার পর দুই দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার হয়। পরবর্তীতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি এবং র্যাবের সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে হত্যার বিবরণ তুলে ধরা হলেও আজও অভিযোগপত্র দাখিল না হওয়া বিচার ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ ঘটনায় ১১ জনকে আসামি করা হলেও এখনো কেউ কেউ পলাতক।
প্রতি মাসের ৮ তারিখ নারায়ণগঞ্জে আলোকপ্রজ্বালনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো—যা প্রমাণ করে, জনগণ এই হত্যাকাণ্ড ভুলে যায়নি, বরং বিচারহীনতার বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ আরও গভীর হচ্ছে।
এক যুগ পেরিয়েও চার্জশিট নেই—এ কেমন রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা ?
ত্বকী হত্যার মতো আলোচিত একটি মামলায় বছরের পর বছর চার্জশিট না দেওয়া শুধু গাফিলতি নয়, এটি বিচারপ্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে ধীরগতি করার অপচেষ্টা কিনা—সে প্রশ্ন এখন জোরালো।
রিমান্ডের নাটক, নাকি প্রকৃত তদন্ত ?
বারবার রিমান্ড মঞ্জুর হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এতে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তরিকতা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে নিরাপত্তা কোথায় ?
ত্বকীর মতো একটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের বিচার আজও ঝুলে থাকা মানে—দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি এখনও শক্তিশালী, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এখনই জবাবদিহি প্রয়োজন
ত্বকী হত্যার বিচার শুধু একটি পরিবারের দাবি নয়, এটি সমগ্র সমাজের ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। অবিলম্বে চার্জশিট দাখিল এবং দায়ীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হলে জনগণের আস্থা আরও ভেঙে পড়বে।









Discussion about this post