দুবাইয়ে সাবেক আইজিপি গ্রেফতার—কিন্তু দেশেই বহাল তবিয়তে কথিত সহযোগী; প্রশ্নের মুখে প্রশাসন ও রাজনৈতিক ছত্রছায়া
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজির আহমদের দেশত্যাগ ও বিদেশে গ্রেফতারের ঘটনায় যখন দেশজুড়ে তোলপাড়, ঠিক তখনই তার কথিত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জের কুখ্যাত অপরাধী ‘আন্ডা রফিক’-এর প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা নতুন করে জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, অসংখ্য মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও রফিকুল ইসলাম ওরফে আন্ডা রফিক এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
বরং স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী একটি রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনের অসাধু অংশ তাকে নীরব আশ্রয় ও সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। এতে করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—বেনজির আহমদ দেশ ছাড়ার আগে কক্সবাজারের অভিজাত হোটেল ‘রামাদা’-র শেয়ার নিজের ও তার মেয়ের নাম থেকে রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত আন্ডা রফিকের কাছে বিক্রি করে দেন। এই লেনদেনের পেছনে অর্থের উৎস ও বৈধতা নিয়ে রয়েছে বড় ধরনের সন্দেহ।
সূত্রমতে, আইজিপি থাকাকালে বেনজির আহমদ পুলিশের কমিউনিটি ব্যাংক থেকে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা তুলে নিয়ে ওই হোটেলের শেয়ার ক্রয় করেন। অথচ এই ব্যাংকের মূলধন গড়ে উঠেছিল সাধারণ পুলিশ সদস্যদের কষ্টার্জিত অর্থে।
পরবর্তীতে অর্থ সংকটের কারণে সদস্যদের আবারও অতিরিক্ত টাকা জমা দিতে বাধ্য করা হয়—যা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয় বাহিনীর ভেতরেই।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বেনজিরের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের ক্ষেত্রে আন্ডা রফিক ও তার ঘনিষ্ঠজনেরা সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছেন।
এমনকি গণমাধ্যম খাতেও তাদের প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যেখানে ‘গ্রীন টিভি’ নামে একটি চ্যানেলের মালিকানার সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার কথাও আলোচনায় এসেছে।
৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে গেলেও সম্প্রতি আন্ডা রফিককে আবারও নারায়ণগঞ্জে প্রকাশ্যে দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এতে করে প্রশ্ন উঠেছে—কোন শক্তির জোরে একজন চিহ্নিত অপরাধী এভাবে প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে পারে ?
বিশ্লেষণ:
এই পুরো ঘটনাপ্রবাহে সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে কথিত অপরাধ জগতের ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ। যদি এসব অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে তা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা, আর্থিক খাত এবং প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর গভীর আস্থার সংকট তৈরি করবে।
উপসংহার:
দুবাইয়ে সাবেক আইজিপির গ্রেফতার যেমন বড় বার্তা বহন করছে, ঠিক তেমনি দেশের ভেতরে তার কথিত সহযোগীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পুরো প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
আন্ডা রফিকের মতো আলোচিত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি—অন্যথায় “আইনের শাসন” শুধুই স্লোগান হয়েই থেকে যাবে।









Discussion about this post