অতিরিক্ত এসপি তরিকুল ইসলামকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ: গুম, দমন-পীড়ন ও মুক্তিপণ বাণিজ্যের অনুসন্ধান দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা/নারায়ণগঞ্জ
বিগত সরকারের সময় থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযোগে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক দক্ষিণ) মোঃ তরিকুল ইসলাম।
তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন, বিরোধী মত দমন, গুম-নিপীড়ন এবং ডিবি পরিচয়ে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহল।
ডিএমপি ডিবিতে দায়িত্বকাল ঘিরে অভিযোগ
তরিকুল ইসলাম ২০১২ সালে ৩০তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন।
২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে সহকারী কমিশনার (এসি) এবং ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, এই সময়ে তিনি তৎকালীন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং বিরোধী মত দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
একাধিক সূত্র দাবি করেছে, ওই সময়ে কিছু বিতর্কিত গ্রেপ্তার, নিখোঁজ ও নির্যাতনের ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নারায়ণগঞ্জে দায়িত্বকাল ও ‘শাওন হত্যা’ প্রসঙ্গ
২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তরিকুল ইসলাম।
এ সময় বিএনপির একটি কর্মসূচিতে পুলিশের গুলিতে যুবদল কর্মী শাওনের মৃত্যুর ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
পরবর্তীতে ওই ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার হলেও তরিকুল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা আলোচনা তৈরি হয়।
তবে এ ঘটনায় তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
ডিবি পরিচয়ে অপহরণ ও মুক্তিপণ বাণিজ্যের অভিযোগ
সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ডিবি পরিচয়ে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়কে কেন্দ্র করে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এক যুবককে অপহরণের চেষ্টার সময় ঢাকা জেলা ডিবির চার সদস্য গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় আসেন তরিকুল ইসলাম।
এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ করা হয়, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অপহরণের নাটক সাজিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, পূর্বেও একই ধরনের ঘটনায় কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত সদস্যরা একই ইউনিটে কর্মরত থাকায়, এই কর্মকাণ্ডের পেছনে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদ ছিল কি না—সে প্রশ্নও উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে তরিকুল ইসলামের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রশ্ন ও দাবি
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত না হলে জনগণের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি—
# অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে
# দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে
# আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে
শেষকথা
তরিকুল ইসলামকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো এখনও প্রমাণিত নয়। তবে অভিযোগের প্রকৃতি ও গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।









Discussion about this post