ফতুল্লায় ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ নামে চুরি! দুই পুলিশ ও দুই সোর্সকে গণপিটুনি
মহানগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে পরিচালিত এক ‘অভিযান’ ঘিরে চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে।
মাদকবিরোধী অভিযানের আড়ালে স্বর্ণের চেইন চুরির অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যসহ চারজনকে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয় জনতা।
ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অনিয়ম নয়—বরং এটি পুলিশের প্রতি জনআস্থার মারাত্মক সংকটেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে ফতুল্লার জামতলা ধোপাপট্রি এলাকার ‘আইনজীবীর বাড়ি’ নামে পরিচিত একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ফতুল্লা মডেল থানার এসআই খাইরুল বাশার ও কনস্টেবল আরিফুল ইসলাম সাদা পোশাকে দুই সোর্সকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে অভিযান চালান।
তবে অভিযানের স্বচ্ছতা ও উদ্দেশ্য শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের এক পর্যায়ে কনস্টেবল আরিফুল ইসলাম আলমারির ড্রয়ার খুলে একটি স্বর্ণের চেইন নিজের পকেটে ভরে নেন। বিষয়টি বাড়ির সদস্যদের চোখে পড়লে তারা তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় জানতে চান এবং পরিচয়পত্র দেখতে চান।
কিন্তু অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা সঠিকভাবে নিজেদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হন। এতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বাড়ির লোকজন ডাকাত সন্দেহে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে চারজনকে ঘিরে ফেলে এবং গণপিটুনি দেয়।
পরে জাতীয় জরুরি সেবায় ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, ধোপাপট্রি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ব্যবসার বিস্তার রয়েছে। এ ঘটনায় অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন—এটি কোনো সাজানো নাটক কি না, নাকি প্রকৃতপক্ষে পুলিশের পরিচয়ে অসাধু কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, খবর পেয়ে চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্টদের থানায় ডাকা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে প্রশ্ন থেকে যায়—আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরাই যদি অভিযানের নামে চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তাহলে সাধারণ মানুষ কার কাছে নিরাপত্তা চাইবে ?
এ ঘটনা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন না হলে জনমনে বিরাজমান সন্দেহ ও ক্ষোভ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।









Discussion about this post