সোনারগাঁও প্রতিনিধি :
সোনারগাঁয়ে ‘হানি ট্র্যাপ’ সন্ত্রাস: কলেজছাত্রীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও, চাঁদা দাবিতে তাণ্ডব
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ভয়ংকর দৌরাত্ম্য।
এবার তাদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে এক নিরীহ কলেজছাত্রী।
প্রেমের ফাঁদে ফেলে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ এবং সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি—এ যেন এক নতুন মাত্রার বিকৃত অপরাধ।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, গত ২৯ জুন সকালে পরিকল্পিতভাবে চক্রের সদস্যরা ওই কলেজছাত্রীকে একটি নির্জন বাসায় ডেকে নেয়।
সেখানে আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা সাব্বির (২৬), তার স্ত্রী মুমু (২৩) এবং সহযোগী রিফাত মিলে তাকে একটি কক্ষে আটকে ফেলে। এরপর শুরু হয় পাশবিক নির্যাতন—জোরপূর্বক পোশাক খুলে তাকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয়।
এতেই শেষ নয়, ভিডিও ধারণের পর শুরু হয় ব্ল্যাকমেইলিংয়ের নির্মম খেলা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
মেয়ের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন তার পিতা মমিন আলী। প্রতিবাদ করতেই তাকে বেধড়ক মারধর করে চক্রের সদস্যরা।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগী ও তার পিতার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অপরাধীরা কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য আরও উদ্বেগজনক। তাদের দাবি, সাব্বির ও তার স্ত্রী মুমুকে কেন্দ্র করে ৪-৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দীর্ঘদিন ধরে ‘হানি ট্র্যাপ’ চালিয়ে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্কের ফাঁদ পেতে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ডেকে এনে সর্বস্ব লুট করা ছিল তাদের নিত্যদিনের কাজ। শুধু তাই নয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও তারা চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। ভয় ও আতঙ্কে এতদিন কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি।
সোনারগাঁ থানার ওসি গোলাম সারোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করলো—আইনের শাসন দুর্বল হলে অপরাধীরা কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। প্রশ্ন উঠছে, দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি চক্র সক্রিয় থাকলেও কেন তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? আর কত ঘটনা ঘটলে প্রশাসনের টনক নড়বে ?
সোনারগাঁবাসীর এখন একটাই দাবি—এই ভয়ংকর চক্রের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে আর কোনো নিরীহ মানুষ এমন নৃশংসতার শিকার না হয়।









Discussion about this post