গলাচিপায় ‘মাদকের সাম্রাজ্য’: প্রকাশ্যে গুলি, প্রশাসনের সামনে বিস্ফোরক অভিযোগ—নিরাপত্তাহীনতায় আতঙ্কিত জনপদ
নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ শহর ও ফতুল্লা থানার সীমান্ত এলাকা ক্রাইমজোন গলাচিপা এলাকা যেন এখন মাদক ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে।
সম্প্রতি প্রায় ১ কোটি টাকার মাদকের চালান প্রবেশ এবং এর প্রতিবাদ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে ভয়-ভীতি ছড়াতে অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসীর মহড়া ও প্রকাশ্যে গুলি বর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শুক্রবার রাতে মাদক ব্যবসায়ী জাহিদ ও বুইট্টা মাসুদের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা এলাকায় মহড়া দিয়ে অন্তত ২২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, এটি শুধু শক্তি প্রদর্শন নয়—এটি সাধারণ মানুষের মুখ বন্ধ রাখার জন্য সরাসরি হুমকি।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে গলাচিপায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) হুমায়ন কবির রিপন।
তিনি বলেন, “মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় এলাকাবাসীকে টার্গেট করে এই ভয়ঙ্কর বার্তা দেওয়া হয়েছে।”
উক্ত সভায় জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি, ৬২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মির্জা মোহাম্মদ আরাফাত, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মামুনসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অথচ তাদের উপস্থিতিতেই এমন গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে বাস্তবে আইনশৃঙ্খলার নিয়ন্ত্রণ কোথায় ?
সভায় গলাচিপাকে ‘মডেল এলাকা’ হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। এলাকাবাসীর দাবি—প্রথমে সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূল না করলে কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) রিপন স্পষ্টভাবে দাবি জানান—গলাচিপায় র্যাবের চিরুনি অভিযান চালাতে হবে, স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করতে হবে, নিয়মিত পেট্রোলিং বাড়াতে হবে এবং মাদকের আড্ডাগুলো গুড়িয়ে দিতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।
এদিকে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি জানিয়েছেন, র্যাবকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হবে এবং এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে ?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লার মাসদাইর, ঘোষেরবাগ ও গলাচিপা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জাহিদ। তার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ছিনতাই, ডাকাতি ও সশস্ত্র হামলার মতো অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।
গত বছরের ১৬ নভেম্বর মাসদাইরে প্রকাশ্যে গুলি ও হামলার ঘটনায় এই জাহিদের নাম উঠে আসে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালালে র্যাবের অভিযানে গুলিবিদ্ধ হন জবা নামে এক নারী। এর আগের দিনই কৃষক দলের নেতা নাহিদুর রহমান পারভেজের ওপর ছুরিকাঘাত ও গুলির ঘটনা ঘটে।
এতসব ঘটনার পরও যদি একই চক্র বহাল তবিয়তে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে, তাহলে তা শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা নয়—এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্যও বড় ধরনের হুমকি।
গলাচিপার সাধারণ মানুষ এখন একটি প্রশ্নই করছে—
“আমরা কি সন্ত্রাসীদের দয়ার ওপর বাঁচবো, নাকি রাষ্ট্র আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে ?”
সময় এখন কঠোর সিদ্ধান্তের। শুধু আশ্বাস নয়—অবিলম্বে দৃশ্যমান অভিযান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে গলাচিপা আরও একটি ‘নো-গো জোনে’ পরিণত হবে—যেখানে আইনের চেয়ে শক্তিশালী হবে মাদকের গডফাদাররা।









Discussion about this post