ফতুল্লার কারখানায় আরেকটি প্রাণহানি: নিরাপত্তাহীন কর্মপরিবেশে থেমে গেল জাহাঙ্গীরের জীবন
হাসপাতাল প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি কারখানায় কাজ করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ২৩ বছর বয়সী শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলম।
রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে ‘সিটি বোর্ড মিল’ নামের একটি কারখানায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে শ্রমিকদের কর্মস্থলের নিরাপত্তা প্রশ্ন।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী জাহাঙ্গীর দীর্ঘ সাত বছর ধরে পুরোনো কাগজ প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ করছিলেন।
রাতের শিফটে কাজ করার সময় অসতর্কতার এক মুহূর্তে তার ডান হাত মেশিনের ভেতরে ঢুকে যায়। মুহূর্তেই হাতটি থেঁতলে যায়, সঙ্গে মাথার ডান পাশেও গুরুতর আঘাত লাগে। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা তাকে আর বাঁচাতে পারেননি।
নিহতের মামা ও সহকর্মী আব্দুর রহিম জানান, দীর্ঘদিন ধরে একই কারখানায় কাজ করলেও এমন ভয়াবহ দৃশ্য আগে কখনো দেখেননি। চোখের সামনে ভাগনের মৃত্যুকে তিনি মেনে নিতে পারছেন না। তার কণ্ঠে ছিল শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ—কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
জাহাঙ্গীরের মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দেয়নি, বরং শ্রমিক নিরাপত্তার চরম বাস্তবতাকেও উন্মোচিত করেছে। শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনার খবর মিললেও কার্যকর প্রতিরোধ বা তদারকির ঘাটতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে থাকে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে শ্রমিক অধিকার সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কারখানাগুলোতে আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। না হলে জাহাঙ্গীরের মতো আরও অনেক তরুণ শ্রমিককে একই পরিণতির শিকার হতে হবে।









Discussion about this post