ফতুল্লায় ‘ভূমিদস্যু শাহাদাতের’ দৌরাত্ম্য থামছেই না: এবার সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি
স্টাফ রিপোর্টার :
একটির পর একটি বিতর্ক, অভিযোগ আর অপকর্মের পরও থামানো যাচ্ছে না নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কুখ্যাত ভূমিদস্যু শাহাদাত ওরফে ‘পুলিশ শাহাদাত’-এর বেপরোয়া কর্মকাণ্ড।
সর্বশেষ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে—যা আবারও প্রশ্ন তুলেছে, এই প্রভাবশালী চক্রের লাগাম টানবে কে ?
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আসাদ চৌধুরী, যিনি বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সংসদের সঙ্গে যুক্ত, অভিযোগ করে বলেন—ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকার ‘মায়ের দোয়া’ টিনসেট মার্কেট সংলগ্নে তার স্বজনদের জমির ওপর জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা চালাচ্ছেন শাহাদাত।
জমি দখলের এই অপচেষ্টার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। সাংবাদিক আসাদের ভাষ্য অনুযায়ী, “শাহাদাত তার সহযোগী আজহার হোসেন গোলজাসহ কয়েকজনকে নিয়ে আমার সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করে। শুধু তাই নয়, পুলিশ দিয়ে হয়রানির হুমকিও দেয়।” পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, তিনি বাধ্য হয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে একাধিকবার ফোন করা হলেও অভিযুক্ত শাহাদাত ফোন রিসিভ না করে বরাবরের মতোই নীরব থেকেছেন—যা তার দায় এড়ানোর পুরনো কৌশল বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।
উল্লেখ্য, শাহাদাত ওরফে ‘পুলিশ শাহাদাত’ ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার বাসিন্দা এবং বিএনপির সহযোগী সংগঠন কৃষকদলের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তবে সাংবাদিক নির্যাতনসহ একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তার দলীয় পদ স্থগিত করা হয়।
কিন্তু পদ স্থগিত হলেও তার দৌরাত্ম্য থামেনি—বরং আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকায় তিনি এক ধরনের ‘ভীতির রাজত্ব’ কায়েম করেছেন, যেখানে সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, সাংবাদিকরাও নিরাপদ নন।
সবশেষ গত বছরের ৫ নভেম্বর গিরিধারা বউবাজার এলাকায় এক অসহায় পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে তিন সাংবাদিক তার সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, শাহাদাত ও তার সহযোগীরা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে সাংবাদিকদের গুরুতর আহত করে এবং প্রায় আড়াই ঘণ্টা একটি কারখানায় আটকে রেখে নির্মম নির্যাতন চালায়। পরে সহকর্মীদের সহযোগিতায় তারা মুক্তি পান।
ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিলেও কার্যত তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—যার ফলেই বারবার এমন দুঃসাহসিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রশ্ন উঠছে—একজন বহুল আলোচিত অভিযুক্ত ব্যক্তি কীভাবে এত অভিযোগের পরও একইভাবে প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছে ? আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবই কি তাকে আরও বেপরোয়া করে তুলছে ?
ফতুল্লার সাধারণ মানুষ এখন একটাই উত্তর খুঁজছে—এই ‘অপ্রতিরোধ্য’ দৌরাত্ম্যের শেষ কোথায় ?









Discussion about this post