আদালত প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় তুচ্ছ বিরোধের জেরে ডিশ ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই যুবক শরিফ ও জুয়েল পরিকল্পিতভাবেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর উপপরিদর্শক মিঠুন কুমার দত্ত।
তিনি জানান, গত ৬ মে ফতুল্লার চাঁনমারী মাউরাপট্টি এলাকায় নিজ প্রতিষ্ঠান ‘ফ্রেন্ডস কেবলস’-এ নাসিরকে হত্যা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় শরিফ ও তার সহযোগী জুয়েল ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার দিনই স্থানীয়রা সন্দেহভাজন হিসেবে শরিফ হোসেনের চার ভাই—সজিব, শান্ত, আরিফ ও নাঈমকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
পরবর্তীতে গত ১৭ জুন শরিফ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
পরদিন তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন। এরপর শনিবার আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে শরিফ জানান, নাসির প্রায় সময়ই তাকে দেখলেই ধমক দিতেন, যা তার মনে ক্ষোভ তৈরি করে। ঘটনার দিন শরিফ ও জুয়েল ইয়াবা কিনতে স্থানীয় সালাউদ্দিনের কাছে গেলেও ইয়াবা না পেয়ে ফেরার পথে নাসিরকে একা দেখে তার অফিসে প্রবেশ করে। এরপর দুজন মিলে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সুইচ গিয়ার ও চায়না চাকু তারা অনলাইনের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছিল।
এ ঘটনায় নিহত নাসিরের স্ত্রী সায়মা আহম্মেদ ফতুল্লা মডেল থানায় ১০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের মাঝে এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।









Discussion about this post