রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক ও সদস্য নিয়োগ
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক ও সদস্য পদে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
দলীয় বিবেচনায় এ নিয়োগকে ঘিরে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. নূরনবী ভুঁইয়াকে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে ইউনিয়নের পূর্বের ১২ জন সদস্যকে অপসারণ করে বিএনপির ১২ নেতাকে নতুন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ (সংশোধিত ২০২৪ পর্যন্ত)-এর ১৮(১) ধারা অনুযায়ী ১২০ দিনের জন্য এ নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জিয়াউর রহমান স্বাক্ষর করেন।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন— ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ওবায়দুল হক ইয়াজুল, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তৈয়বুর রহমান, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. সফিউদ্দিন মোল্লা, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফ মিয়া, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মামুন হোসেন ভূঞা, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বাচ্চু মিয়া, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আল আমিন মাসুদ।
এছাড়া সংরক্ষিত আসনে নিয়োগ পেয়েছেন উপজেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিনা আক্তার, ইউনিয়ন মহিলা দলের নেত্রী হাসনারা বেগম ও রুমি আক্তার।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবির জানান, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালে। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় গত কয়েক মাস ধরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয়দের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় রাজনৈতিক ব্যক্তিকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় এবং ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৯ জন ও ৩টি সংরক্ষিত আসনে ৩ জন নারী সদস্যকে দায়িত্ব প্রদান করে। আগামী ১২০ দিন তারা দায়িত্ব পালন করবেন।
এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
কেউ এটিকে প্রশাসনিক প্রয়োজন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ দলীয়করণের অভিযোগ তুলছেন।









Discussion about this post