সিদ্ধিরগঞ্জে ‘ঝগড়া থামাতে গিয়ে’ হত্যা—পেছনে কি পুরনো প্রতিশোধের নীলনকশা?
নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঝগড়া থামাতে গিয়ে ফজলুল হক (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
তবে ঘটনাটি নিছক তাৎক্ষণিক উত্তেজনার ফল নয়—নিহতের পরিবারের দাবি, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড।
গত ১৭ জুলাই রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল সৈয়দপাড়া ক্যানেলপাড় এলাকার ‘আহসান ভিলা (মিয়া বাড়ি)’র সামনে ঘটে এ নৃশংস হামলা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নোবেল শেখ নামে এক ব্যক্তি এক নারীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ালে স্থানীয়রা তা থামানোর চেষ্টা করেন।
ফজলুল হকও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে ঝগড়া বন্ধ করতে এগিয়ে আসেন। কিন্তু সেই ‘ভুলের’ই নির্মম খেসারত দিতে হয় তাকে।
অভিযোগ উঠেছে, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নোবেল শেখ ফোনে তার সহযোগীদের ডেকে আনে। এরপর নোবেল, রবিনসহ কয়েকজন মিলে প্রকাশ্য রাস্তায় ফজলুল হকের ওপর হামলে পড়ে। এলোপাতাড়ি মারধরে গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরলেও শেষ রক্ষা হয়নি—১৯ জুলাই সকালে রক্তবমি শুরু হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই বৃদ্ধ।
এদিকে নিহতের পরিবার সরাসরি অভিযোগ তুলেছে—এটি কোনো হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনা নয়, বরং ঠান্ডা মাথায় সাজানো প্রতিশোধ।
নিহতের মেয়ে ফারজানা জানান, প্রায় এক বছর আগে তার ছোট ভাই ফারুক হত্যা মামলার বাদী ছিলেন তার বাবা ফজলুল হক। সেই মামলা তুলে নিতে দীর্ঘদিন ধরে আসামিপক্ষের পক্ষ থেকে হুমকি দিয়ে আসা হচ্ছিল। গ্রেপ্তার হওয়া নোবেল শেখ ওই আসামিপক্ষের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়ায় পরিবারের সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে—আইনের আশ্রয় নেওয়াই কি আজ অপরাধ ? একজন মামলার বাদী হওয়ার ‘অপরাধে’ কি জীবন দিতে হবে ?
ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে রবিন (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মূল অভিযুক্তসহ অন্যদের এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানিয়েছেন, অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো—একজন বৃদ্ধকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হলো, আর অপরাধীরা এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে! এটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি আইনের শাসনের প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ।
এখন দেখার বিষয়—এই হত্যার বিচার কি আদৌ নিশ্চিত হবে, নাকি আগের মতোই প্রভাবশালীদের ছায়ায় চাপা পড়ে যাবে আরেকটি প্রাণহানির বিচার ?









Discussion about this post