থানায় ‘সালিশ’ বিতর্ক: ফতুল্লায় এএসআইয়ের ভূমিকায় প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে থানার অভ্যন্তরে সালিশ বৈঠক পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোঃ শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
যদিও অভিযুক্ত এএসআই অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন, তবে তারই দেওয়া একাধিক বক্তব্যে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) একটি পারিবারিক অভিযোগের ভিত্তিতে এএসআই শফিকুল ইসলাম উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে আনেন।
এ সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পরও প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে থানার ক্যান্টিন-সংলগ্ন একটি নিরিবিলি স্থানে উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতা বা সালিশের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এতে থানার ভেতরে অনানুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া চালানোর অভিযোগ সামনে আসে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, পারিবারিক বিরোধের বিচার বা সালিশ করা পুলিশের আইনগত দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। ফলে থানার অভ্যন্তরে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি আইনগত ও প্রশাসনিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। তবে বিচার বা সালিশ পরিচালনা করা তাদের দায়িত্ব বা ক্ষমতার আওতায় পড়ে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি কোনো ধরনের সালিশ বৈঠক করিনি। তাদের শুধু জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডাকা হয়েছিল।”
তবে একই আলাপচারিতায় অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আজ সারাদিন মোটরসাইকেলে ঘুরেছি। আবার তিন পক্ষের বিচার-সালিশ করে মাথা জ্যাম হয়ে আছে। কিছু মনে করবেন না।”
তার এই বক্তব্যকে ঘিরেই নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সংশয় ঘনীভূত হয়েছে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, “থানার কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিচার বা সালিশ করার আইনি এখতিয়ার নেই।”
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক) সার্কেল শামীম মোর্শেদ বলেন, “ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী থানার কোনো কর্মকর্তা কোনো ধরনের বিচার বা সালিশ পরিচালনা করতে পারেন না। এটি আইনগতভাবে বৈধ নয়। তাছাড়া এ ধরনের পরিস্থিতিতে হাতাহাতি বা সংঘর্ষে জড়ানো আইন অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।”
ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে কোনো তদন্ত বা পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না—সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
তবে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, থানার ভেতরে এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে আইনবহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।









Discussion about this post