দুই বছর পর প্রকাশ্যে শামীম ওসমান, নিউইয়র্কে কর্মীসভায় বক্তব্যে আত্মসমালোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত-সমালোচিত রাজনীতিক ও সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে প্রায় দুই বছর পর আবার প্রকাশ্যে দেখা গেছে।
তবে এবার তিনি নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মাঠে নয়, হাজার মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আওয়ামী লীগের এক কর্মীসভায় বক্তব্য দিয়েছেন।
একসময় ‘খেলা হবে’ স্লোগানে রাজনৈতিক মাঠ গরম রাখা এই নেতা দীর্ঘদিন ধরেই আক্রমণাত্মক বক্তব্যের জন্য আলোচনায় ছিলেন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তার অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। এর মধ্যে দীর্ঘ বিরতির পর তাকে প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা যাওয়ায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
নিউইয়র্কের ওই সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে শামীম ওসমান অনেকটা আত্মসমালোচনার সুরে বলেন, “আমি ব্যর্থ।” একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “কে বড় নেতা, কে ছোট নেতা—এটা গুরুত্বপূর্ণ নয়; এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ঐক্য।”
বক্তব্যে তিনি তার পুরোনো রাজনৈতিক অবস্থানও তুলে ধরেন।
দাবি করেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আগেভাগেই তিনি ধারণা করেছিলেন এবং বিভিন্ন ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখতেন।
এ সময় তিনি বিএনপি এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তার রাজনৈতিক মনোযোগ ছিল মূলত এমন গোষ্ঠীর দিকে, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকার করে না। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা গোলাম আজমের নিষিদ্ধ হওয়ার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।
শামীম ওসমান তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। নিজের কার্যালয়ে বোমা হামলার ঘটনার স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, অতীতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে।
শামীম ওসমান ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২ আগস্ট রাতে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সেনাবাহিনীকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া, কারফিউ প্রত্যাহার এবং নারায়ণগঞ্জে বড় জনসমাবেশ করার প্রস্তাব দেন। তিনি দাবি করেন, তার পক্ষে দেড় থেকে দুই লাখ মানুষ সমাবেশে জড়ো করা সম্ভব ছিল। তবে সম্ভাব্য রক্তপাত ও গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় শেখ হাসিনা সে পথে এগোতে চাননি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় শামীম ওসমানসহ ওসমান পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় শিশু রিয়া গোপসহ কয়েকজন নিহত ও আহত হন। এসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ দায়ের হয়।
এরপর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। পরবর্তীতে তিনি দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শামীম ওসমানসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দীর্ঘ বিরতির পর নিউইয়র্কে তার এই প্রকাশ্য উপস্থিতি নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।









Discussion about this post