নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাসের লিকেজ থেকে লাগা ভয়াবহ আগুনে দগ্ধ হয়ে একে একে প্রাণ হারাল একই পরিবারের মা ও ছেলে।
৮ বছরের শিশু মারুফের মৃত্যুর দুদিন পর মারা গেলেন তার মা বিউটি। আর তাদের মৃত্যুর পর এবার মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা বাবা মাইদুল ইসলামও আর বাঁচলেন না।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাইদুল ইসলাম।
এর আগে সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল পৌনে ৭টার দিকে একই হাসপাতালে মারা যান তার স্ত্রী বিউটি।
আর গত শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তাদের একমাত্র সন্তান ৮ বছরের মারুফ।
এ ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান—একটি পরিবারের তিন সদস্যই মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রাণ হারালেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আগুনে মারুফের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। তার মা বিউটির শরীরের ৮০ শতাংশ এবং বাবা মাইদুল ইসলামের শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ দগ্ধ হয়। তিনজনকেই গুরুতর অবস্থায় রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছিল।
হাসপাতালের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানিয়েছিলেন, দগ্ধ তিনজনের অবস্থাই ছিল সংকটাপন্ন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে মারা যায় শিশু মারুফ। এরপর মারা যান তার মা বিউটি। সর্বশেষ মঙ্গলবার সকালে মারা গেলেন বাবা মাইদুল ইসলাম।
যেভাবে ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
নিহত পরিবারের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কুড়িপাড়া চাপাতলি এলাকায়। সেখানে একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন পেশায় রাজমিস্ত্রি মাইদুল ইসলাম।
গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই বাসায় হঠাৎ আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ঘরে থাকা মাইদুল, তার স্ত্রী বিউটি ও ছেলে মারুফ দগ্ধ হন।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানিয়েছিলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘরের ভেতর গ্যাস লিক হয়ে জমে ছিল। সকালে মাইদুল লাইটার দিয়ে সিগারেট ধরানোর সময় জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটে আগুন ধরে যায়।
স্থানীয়দের সহায়তায় দগ্ধ তিনজনকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
কয়েক দিনের ব্যবধানে নিঃশেষ একটি পরিবার
আগুনের ঘটনায় একসঙ্গে পরিবারের তিন সদস্য দগ্ধ হওয়ার পর থেকেই স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে একমাত্র সন্তান মারুফকে হারান মা-বাবা। তার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই মারা যান মা বিউটি। সর্বশেষ মঙ্গলবার সকালে মৃত্যুবরণ করেন বাবা মাইদুল ইসলাম।
ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে গ্যাস লিকেজের আগুনে নিঃশেষ হয়ে গেল একটি পরিবার। মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায়ও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ঘরে জমে থাকা গ্যাসের কারণেই লাইটার জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আবাসিক এলাকায় গ্যাসের লিকেজ শনাক্তকরণ, সংযোগ ও চুলার নিরাপত্তা এবং ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।









Discussion about this post