ত্বকী হত্যা মামলায় ৩ দফা সময় বাড়িয়েও তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি র্যাব
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
আদালতের বেঁধে দেওয়া সময় এবং পরবর্তী সময়ে তিন দফা সময় বাড়ানোর পরও আলোচিত তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল আবারও পিছিয়ে গেছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটির ১০৫তম শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এদিনও র্যাব-১১-এর তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক চন্দ্র মজুমদার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেননি। এমনকি নতুন করে সময় চেয়ে আদালতে কোনো আবেদনও করেননি বলে জানিয়েছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।
শুনানি শেষে বিচারক নুরুল হুদা চৌধুরী আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর মামলাটির পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য র্যাবকে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন আদালত। পরে তদন্ত কর্মকর্তা সময় বাড়ানোর আবেদন করলে তিন দফায় সেই সময় বৃদ্ধি করা হয়। সর্বশেষ গত ১ জুলাই তৃতীয় দফায় সময় চাওয়া হলে আদালত ১২ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করেন। কিন্তু নির্ধারিত তারিখেও প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা।
এদিকে বুধবার মামলার ছয় আসামি—জামশেদ শেখ, ইউসুফ হোসেন লিটন, কাজল হাওলাদার, শাফায়েত হোসেন শিপন, ইয়ার মোহাম্মদ পারভেজ ও রিফাত বিন ওসমান আদালতে হাজিরা দেন। তাদের মধ্যে জামশেদ শেখ বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অপর তিন পলাতক আসামি সুলতান শওকত ভ্রমর, সালেহ রহমান সীমান্ত ও আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রদীপ ঘোষ।
তিনি জানান, মামলার আরেক আসামি তায়েবউদ্দিন জ্যাকি জামিনে থাকলেও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বুধবার আদালতে হাজির হননি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আদালতে হাজিরা না দিয়ে প্রতিবারই সময় আবেদন করছেন। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে তার আইনজীবীর আবেদন শেষবারের মতো মঞ্জুর করা হয়েছে।
অ্যাডভোকেট প্রদীপ ঘোষ বলেন, পরবর্তী তারিখে তায়েবউদ্দিন জ্যাকি আদালতে হাজির না হলে তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে।
দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে প্রশ্ন
আলোচিত ত্বকী হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে বারবার বিলম্ব হওয়ায় মামলার অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আদালতের নির্ধারিত সময়ের পরও তিন দফায় সময় বাড়ানো হলেও প্রতিবেদন প্রস্তুত না হওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
এখন আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের তারিখকে ঘিরে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয় কি না, সেটিই সংশ্লিষ্টদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।









Discussion about this post