‘ডিসেম্বরে আপা আসছে, তার আগেই তোকে মেরে ফেলব’— ফতুল্লায় জামায়াত নেতাকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে ও মারধর করার অভিযোগ উঠেছে যুবলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। হামলার সময় অভিযুক্তদের একজন ভুক্তভোগীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ডিসেম্বরে আপা আসছে, তার আগেই তোকে মেরে ফেলব।’—এমন অভিযোগ করেছেন আহত জামায়াত নেতা।
বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ফতুল্লার কায়েমপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত জসিম উদ্দিন ফতুল্লা থানা জামায়াতের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি। তিনি অভিযোগ করেন, যুবলীগের ফতুল্লা থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফয়জুলের সহযোগী শাহাদাতসহ কয়েকজন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আহমেদ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
জসিম উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় শাহাদাতসহ কয়েকজন যুবলীগ কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই শাহাদাত ও তার সহযোগীরা তাকে অনুসরণ করছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় নামাজ শেষে বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় শাহাদাত ও তার সহযোগীরা তার পথরোধ করেন।
জসিমের অভিযোগ, এ সময় শাহাদাত তাকে বলেন, তাদের গ্রেপ্তারের পেছনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং মহানগর জামায়াতের আমির আব্দুল জব্বারের সঙ্গে তিনি সহযোগিতা করেছিলেন।
এরপর শাহাদাত তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘ডিসেম্বরে আপা আসছে, তার আগেই তোকে মেরে ফেলব।’ এরপর তারা তাকে মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ জসিমের।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে সুইচ ব্লেড দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার পথে একই স্থানে হামলাকারীরা তাকে আবারও মারধর করে বলে অভিযোগ করেন জসিম। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে তিনি রক্ষা পান।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, একজনকে আটকের পর অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








Discussion about this post