নাসিকের সীমানা বাড়ছে, যুক্ত হচ্ছে ফতুল্লা-কুতুবপুর-এনায়েতনগর
মহানগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সীমানা সম্প্রসারণের উদ্যোগে নতুন গতি এসেছে। সদর উপজেলার ফতুল্লা, কুতুবপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের সম্পূর্ণ অংশ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে স্থানীয় সরকার বিভাগকে এ মতামত জানানো হয়েছে। গণশুনানি, সরেজমিন পরিদর্শন, সংশ্লিষ্ট এলাকার জনমত এবং বিভিন্ন বাস্তবিক বিষয় পর্যালোচনা করে জেলা প্রশাসন এ সুপারিশ করেছে।
জেলা প্রশাসনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) সীমানা পরিবর্তন (সম্প্রসারণ এবং সংকোচন) বিধিমালা, ২০১৩ অনুযায়ী নাসিকের সীমানা সম্প্রসারণের বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ জুলাই ও ১১ আগস্ট গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গণশুনানির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শনের জন্য একটি পরিদর্শন কমিটি গঠন করা হয়।
পরবর্তীতে পরিদর্শন কমিটি সরেজমিনে ফতুল্লা, কুতুবপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে। পরিদর্শনের সময় এলাকার বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ড্রোন ফুটেজসহ প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়।
গণশুনানি ও পরিদর্শন কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) সীমানা পরিবর্তন বিধিমালা, ২০১৩-এর ৩ নম্বর বিধি অনুযায়ী তিনটি ইউনিয়নের সম্পূর্ণ অংশ নাসিকের অন্তর্ভুক্ত করার উপযোগী বলে মত দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব এলাকার জনসংখ্যা, মানুষের পেশাগত বৈশিষ্ট্য, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি, অবকাঠামোগত বাস্তবতা এবং স্থানীয় জনমত বিবেচনায় নাসিকের সীমানা সম্প্রসারণের জন্য এলাকাগুলো উপযোগী।
দীর্ঘদিন ধরেই ফতুল্লা, কুতুবপুর ও এনায়েতনগরের বিভিন্ন অংশকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশ। জেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের ফলে সেই দাবির প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, জেলা প্রশাসনের এই প্রতিবেদনকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ফতুল্লা, কুতুবপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হওয়া। এসব এলাকা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার উপযোগী বলেও তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গণশুনানি হয়েছে এবং শুনানির পরিপ্রেক্ষিতেই প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। তিনটি ইউনিয়ন সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হলে এসব এলাকায় আরও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে সীমানা সম্প্রসারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। জেলা প্রশাসনের মতামত ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগের বিবেচনায় যাবে। বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তিনটি ইউনিয়নের সম্পূর্ণ অংশ নাসিকে যুক্ত হলে নারায়ণগঞ্জের নগর ব্যবস্থাপনার পরিধি যেমন বাড়বে, তেমনি নতুন করে বৃহৎ জনগোষ্ঠী সিটি করপোরেশনের নাগরিক সেবার আওতায় আসবে। একই সঙ্গে বর্ধিত এলাকার পরিকল্পিত নগরায়ণ, সড়ক যোগাযোগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও ড্রেনেজসহ নাগরিক সেবার সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে সীমানা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন অন্তর্ভুক্ত এলাকার নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা, অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানো এবং সিটি করপোরেশনের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ মোকাবিলাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।









Discussion about this post