ডেমরার ডিএনডি খাল থেকে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর ডেমরা থানাধীন পশ্চিম হাজিনগর এলাকার ক্যানেল সংলগ্ন ডিএনডি খাল থেকে জীবন মিয়া (৩০) নামে নারায়ণগঞ্জের এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত জীবন মিয়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার দড়িকান্দি এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুল মজিদ মিয়া। তিনি মাছের ব্যবসার পাশাপাশি নিজস্ব একটি মার্কেট পরিচালনা করতেন। ওই মার্কেটের দোকান ভাড়া থেকে তার আয় হতো। তিনি স্ত্রী তানজিলা আক্তার ও এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।
ডেমরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে খবর পেয়ে পশ্চিম হাজিনগর প্রাইম কেয়ার ডায়াগনস্টিক হাসপাতালের প্রায় ৩০ গজ পশ্চিমে ক্যানেলপাড় সংলগ্ন ডিএনডি খাল থেকে জীবন মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, খালপাড়ে থাকা একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সংস্পর্শে এসে জীবন মিয়া বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অচেতন হয়ে খালে পড়ে যেতে পারেন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
এদিকে নিহতের ভায়রা মো. শান্ত দাবি করেছেন, জীবনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তার ভাষ্য, জীবনের কোনো শত্রু ছিল বলে তারা জানতেন না। এরপরও কীভাবে তিনি ওই স্থানে গেলেন এবং কীভাবে তার মৃত্যু হলো, তা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
শান্ত জানান, বুধবার ব্যবসায়িক কাজে জীবন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বাসা থেকে টিপু নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে ঢাকায় আসেন। সাধারণত রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে তার বাসায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু রাত ১০টার পরও তিনি বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ফোনে তাকে পাওয়া যায়নি।
পরে ভোরের দিকে ডেমরা থানা থেকে পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার আশঙ্কার কথা বলা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিশ্চিত করেনি। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে খালে পড়ে মৃত্যু, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
ঘটনাটি ঘিরে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জীবন মিয়া কী উদ্দেশ্যে ওই খালপাড়ে গিয়েছিলেন, সেখানে তার সঙ্গে কী ঘটেছিল এবং বৈদ্যুতিক খুঁটির সংস্পর্শে আসার পরিস্থিতি কী ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।









Discussion about this post