নিজস্ব প্রতিবেদক | নারায়ণগঞ্জ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তাঁর ছেলে অয়ন ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
আগামী ১০ জুন মামলাটির সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
আজ বুধবার (১৩ ম) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত সহিংসতা, দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
আদালত অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন।
১২ আসামির তালিকায় শামীম ওসমানের পরিবারের একাধিক সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনের নাম রয়েছে।
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মামলার অন্য আসামিরা- শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, অয়নের শ্যালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবের সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটু, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রাজু আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সাজনু, ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সোহানুর রহমান শুভ্র। আসামিদের সবাই পলাতক।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, মামলার সব আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
আইনজীবীরা জানান, অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটি এখন আনুষ্ঠানিক বিচার পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। নির্ধারিত তারিখে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করবে এবং সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মামলাটি শুধু নারায়ণগঞ্জ নয়, সারাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হতে পারে। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বিষয়টি জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে, আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো অগ্রগতির তথ্য জানা যায়নি।
তবে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী, পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও অগ্রগতি নিয়ে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও।









Discussion about this post