নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়—এটি রীতিমতো একটি চলমান বাস্তবতা।
ফতুল্লা, বন্দর, আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁয়ের পর এবার সিদ্ধিরগঞ্জে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে, অপরাধীরা যেন বেপরোয়া, আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যত নিষ্ক্রিয়।
সর্বশেষ ঘটনায়, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন আনোয়ারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও নির্মম হামলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নিজস্ব জমিতে দোকান নির্মাণ করতে গেলে জাফরুল হাসান লিসান নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রকাশ্য দিবালোকে তাকে লোহার শাবল দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।
এ ঘটনা শুধু একটি হামলা নয়—এটি রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার ওপর সরাসরি আঘাত। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্বে ডাকাতির মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত।
এমন একজন ব্যক্তি কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়ে আবারও অপরাধ সংঘটিত করার সাহস পায়—এ প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া জনমনে ক্ষোভ ও হতাশা আরও বাড়িয়েছে।
ভুক্তভোগী মামলা করলেও পুলিশি বক্তব্য—“বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে”—এখন আর জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
কারণ, “খতিয়ে দেখা” শব্দটি যেন দীর্ঘসূত্রতা ও দায় এড়ানোর এক পরিচিত অজুহাতে পরিণত হয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে—নারায়ণগঞ্জ কি এখন সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে? রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেই কি অপরাধ করে পার পাওয়া যাচ্ছে ? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা কি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ ?
একটির পর একটি ঘটনায় স্পষ্ট, অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপের চরম ঘাটতি রয়েছে।
অপরাধীরা আইনের তোয়াক্কা করছে না, কারণ তারা জানে—দ্রুত বিচার বা কঠোর শাস্তির বাস্তব উদাহরণ খুব কম।
এ অবস্থায় অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়।
অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে—এটা বলার অপেক্ষা রাখে না।
রাষ্ট্রের নীরবতা যখন অপরাধীর সাহস বাড়ায়, তখন সেটি শুধু ব্যর্থতা নয়—বরং বিপজ্জনক উদাসীনতা।









Discussion about this post