নগর প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সাঁড়াশি অভিযানের জোরালো ঘোষণার পরপরই মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
এতে পুলিশের সদস্যসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (১৪ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফতুল্লার মাসদাইর পতেঙ্গার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ‘ফাইটার মনির’-এর আস্তানায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে মনিরসহ তার সহযোগী নাইম (৩০) ও মাসুমকে (২৪) বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেফতার করা হয়।
তবে গ্রেফতারের পরপরই তাদের সহযোগীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারা এলোপাথাড়ি ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং এক পর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ৫ থেকে ৬ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাল্টা দুই রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে। যদিও এতে কেউ গুলিবিদ্ধ হয়নি, তবে ইট-পাটকেলের আঘাতে পুলিশের ৫ সদস্যসহ মোট ৮ জন আহত হন।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন—এসআই নন্দন সরকার, এসআই মনির, এএসআই কামরুল হাসান, এএসআই মনির হোসাইন এবং কনস্টেবল আশিক। এছাড়া পথচারী হেলালউদ্দিন, ড্রাইভার বাবু ও একেএম শফিউদ্দিন আহত হন।
তাদের শহরের খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযানে বাধা দিয়ে সন্ত্রাসীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ওই এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা থাকলেও বাস্তবে মাদক কারবারিদের সঙ্গে কিছু অসাধু সদস্যের গোপন আঁতাতের অভিযোগ রয়েছে।
ফলে অভিযানের ঘোষণার পরও অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও মাসদাইর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে র্যাব ও পুলিশের সদস্যরা হামলার শিকার হয়েছেন। ধারাবাহিক এমন ঘটনায় ফতুল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল অভিযান ঘোষণা নয়, বরং কার্যকর ও স্বচ্ছ অভিযানের মাধ্যমে মাদক চক্র ভাঙতে না পারলে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটতে পারে।









Discussion about this post