নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে স্ত্রীর ওপর বর্বর নির্যাতন চালিয়ে গলা টিপে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে মাজারুল ইসলাম সবুজ (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অনলাইন জুয়ার নেশায় অন্ধ হয়ে ওঠা এই ব্যক্তির নৃশংস আচরণে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নির্যাতনের ভিডিও ঘটনাটিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
পুলিশ ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা সবুজের সঙ্গে প্রায় ১২ বছর আগে ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকার তানিয়ার (২৬) বিয়ে হয়।
তাদের সংসারে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরেই অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে সবুজ, যা ধীরে ধীরে পারিবারিক নির্যাতনের ভয়ংকর রূপ নেয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, জুয়ার টাকার জন্য প্রায়ই স্ত্রীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন সবুজ। টাকা না পেলে চলত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। সম্প্রতি নিজের ও মায়ের উপার্জনের প্রায় ৭০ হাজার টাকা জুয়ায় হারিয়ে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন তিনি।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৯ জুন জুয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তানিয়াকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন সবুজ এবং পিত্রালয় থেকে এক লাখ টাকা এনে দিতে বলেন। বাধ্য হয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন তানিয়া।
এরপরও থামেনি নির্যাতন।
গত ১৩ জুন সকালে ফোনে আবার টাকা দাবি করেন সবুজ।
অস্বীকৃতি জানালে বেলা ১১টার দিকে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে স্ত্রীর ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করেন তিনি—যা একেবারেই ঠাণ্ডা মাথার হত্যাচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তানিয়ার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন এবং ঘটনাস্থলেই সবুজকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তানিয়াকে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন।
এদিকে, ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, বিষয়টি সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদের নজরে এলে তিনি দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সবজেল হোসেন জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ প্রভাব পরিবার ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে—এ ঘটনা তারই নির্মম উদাহরণ। তারা এমন অপরাধের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।









Discussion about this post