গ্রেপ্তার অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার—পুলিশের দাবি, চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলছেন স্থানীয়রা
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও সোনারগাঁও উপজেলার সীমান্তবর্তী শান্তিরবাজার এলাকায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দক্ষিণ বিভাগের তিন সদস্য গণপিটুনির শিকার হয়েছেন।
পরে আড়াইহাজার থানা-পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডিবি দক্ষিণ বিভাগের চার সদস্যের একটি দল দুপুরে রূপগঞ্জের গাউছিয়া এলাকায় একটি মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালায়। এ সময় আসামিপক্ষের লোকজন তাঁদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে তিন সদস্যকে মারধর করে একটি পিকআপে তুলে আড়াইহাজার উপজেলার উচিতপুরা ইউনিয়নের শান্তিরবাজার এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের আবারও নির্যাতন করা হয়।
আহতরা হলেন—উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমান এবং কনস্টেবল কবির। তাঁরা কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় কর্মরত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবির আরেক সদস্য কনস্টেবল আকাশ আহমেদ হামলার সময় পাশের একটি ওয়াশরুমে থাকায় অক্ষত থাকেন। পরে তিনি ব্যবহৃত মাইক্রোবাস নিয়ে আড়াইহাজার থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, আহত ব্যক্তিরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন। ঘটনার দিন তাঁদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে ভুয়া ডিবি সদস্য সন্দেহে তাঁদের আটক করা হয় এবং উত্তেজিত জনতা মারধর করে।
এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
কাউকে আটক করে চোখ বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা কেন ঘটেছে এবং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেন, ডিবি সদস্যরা কী উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন এবং পুরো ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।









Discussion about this post