রাজধানী থেকে আটক করে নারায়ণগঞ্জে আনা হয় সজীবকে; বলছে পুলিশ—“সহযোগিতামূলক আচরণ করেছে”
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে ও জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে আটক করেছে পুলিশ।
চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার (২১ জুন) দুপুরে রাজধানী ঢাকা থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ তাকে আটক করে বিকেল ৫টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে আসে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।
তিনি বলেন, সজীবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির অভিযোগ আসছিল। এসব অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ডাকা হয়েছে। “আমরা তাকে ঢাকায় পাই। আমাদের সঙ্গে আসার জন্য অনুরোধ করলে তিনি সহযোগিতা করেছেন,”—যোগ করেন তিনি।
অভিযোগের পেছনের প্রেক্ষাপট
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় বিভিন্ন পরিবহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ঠিকাদারি কাজকে কেন্দ্র করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে সজীবের বিরুদ্ধে। কয়েকজন ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, নিয়মিতভাবে চাঁদা দাবি এবং না দিলে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত মামলা দায়ের হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দেয়নি পুলিশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অভিযোগ জানাতে ভয় পান।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিএনপির কিছু নেতা অনানুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছেন, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। তবে দলীয়ভাবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত চলছে এবং প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে। প্রয়োজনে মামলার প্রক্রিয়া শুরু করা হতে পারে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এখন নজর রাখছেন—তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি কোন দিকে যাচ্ছে।
এমন ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী এমপি পুত্রকে আটক এর বিষয়টি নিশ্চিত করে বক্তব্য দিলেও তদন্তের নাম করে সকল তথ্যই আপাতত গোপন রেখেছেন তিনি।









Discussion about this post