পুলিশের নাকের ডগায় পলাতক আসামি, ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়া ?
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা ভেঙে পড়লে একজন ওয়ারেন্টভুক্ত হত্যা মামলার পলাতক আসামি প্রকাশ্যে জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ে অবস্থান করতে পারে—তার জ্বলন্ত উদাহরণ তৈরি করেছে ডালিম নামের এক আসামি।
ঘটনাটি শুধু চাঞ্চল্যই নয়, বরং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
শনিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে দেখা যায় সোনারগাঁয়ের হত্যা মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. ডালিমকে।
অথচ তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে—এ তথ্য পুলিশের কাছেই নিশ্চিত।
জানা যায়, ডালিম কাঁচপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর সংঘটিত লিটন হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি। ওই ঘটনায় নিহত লিটনের বড় বোন রাশিদা বেগম ২৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—আইনের চোখে পলাতক এই আসামি দিব্যি এসপি কার্যালয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন, অথচ তাকে গ্রেপ্তার করার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সময় একই স্থানে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের নেতা খাইরুল ইসলাম সজীব, যিনি চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক হয়ে সেখানে আনা হয়েছিলেন।
সজীবকে যখন গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেওয়া হচ্ছিল, তখনও ডালিম এসপি কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন।
এমনকি সাংবাদিকদের ক্যামেরায় তার উপস্থিতি স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে—যা পুরো ঘটনাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ডালিম একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, সেই প্রভাবের বলয়েই তিনি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো—আইন যেন সবার জন্য সমান নয়। সাধারণ মানুষ যেখানে সামান্য অভিযোগেই গ্রেপ্তার হন, সেখানে একজন হত্যা মামলার আসামি পুলিশের সর্বোচ্চ কার্যালয়ে উপস্থিত থেকেও নির্বিঘ্নে বেরিয়ে যেতে পারেন—এ বাস্তবতা ভয়াবহ এবং লজ্জাজনক।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বলেন, “ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির উপস্থিতির বিষয়টি আমাদের নজরে আসেনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—একজন পলাতক আসামি কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রবেশ করলেন? নাকি এটি কেবল ‘নজরে না আসার’ অজুহাতে দায় এড়ানোর চেষ্টা ?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। একই সঙ্গে এটি অপরাধীদের জন্য এক ধরনের ‘নিরাপত্তার বার্তা’ হিসেবেও কাজ করতে পারে।
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে জনমনে আস্থার সংকট আরও গভীর হবে—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।









Discussion about this post