চাঁদাবাজির অভিযোগে এমপি পুত্র আটক: প্রভাব খাটিয়ে শিল্পাঞ্চলে ত্রাসের রাজত্ব, শেষমেশ ডিবির জালে খাইরুল ইসলাম সজীব
স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা চাঁদাবাজি, দখল ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অবশেষে গড়িয়ে পড়েছে আইনের হাতে।
দেশের একটি বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলামের ছেলে এবং জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম (সজীব) কে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার ২১ জুন সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে তাকে আটক করা হয়—যা প্রমাণ করে, বিষয়টি শুধুমাত্র সাধারণ অপরাধ নয়, বরং দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের একটি ভয়াবহ চিত্র।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাকে নারায়ণগঞ্জ ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পরে আরও গভীর তদন্তের জন্য তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই খাইরুল ইসলাম শিল্পাঞ্চলে একক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালান।
একটি বড় শিল্পগ্রুপের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করেন তিনি। দাবি পূরণ না হওয়ায় পণ্যবাহী যানবাহন আটকে দিয়ে কার্যত জিম্মি করে রাখা হয়। পরে সরকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হলেও অভিযোগের গুরুতরতা থেকে যায়।
স্থানীয় পুলিশ ও শিল্পমালিকদের অভিযোগ আরও ভয়াবহ। সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁও ও কাঁচপুর এলাকার বিভিন্ন শিল্পকারখানা থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়, টাকা না দিলে পরিবহন বন্ধ করে দেওয়া, এমনকি ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ—এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পুরো এলাকায় এক ধরনের অঘোষিত সন্ত্রাস কায়েম করেছিলেন খাইরুল।
অভিযোগ রয়েছে, সংসদ সদস্য বাবার প্রভাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি এসব অপকর্ম চালিয়ে গেছেন। ফলে দীর্ঘদিন কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই নীরবতা ভেঙে পড়েছে।
এদিকে, আটকের পরপরই সংগঠনগতভাবে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় যুবদল। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনিয়মে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে খাইরুল ইসলামকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, খাইরুল ইসলাম সজীবের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশ্ন উঠেছে—রাজনৈতিক প্রভাবকে পুঁজি করে কতদিন ধরে এই ধরনের অপকর্ম চলছিল ?
আর কতজন এমন প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা জিম্মি হয়ে আছে ?
খাইরুল ইসলামের আটক শুধু একটি ব্যক্তি নয়, বরং পুরো একটি অনিয়ম-দুর্নীতির চক্রের মুখোশ উন্মোচনের সূচনা—এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।
এখন দেখার বিষয়, তদন্ত কতদূর এগোয় এবং আইনের প্রয়োগ কতটা নিরপেক্ষ হয়।









Discussion about this post