চাঁদাবাজির অভিযোগে এমপি পুত্র আটক: মুক্তির জন্য মধ্যরাতে তৎপর পিতা মান্নান
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ:
চাঁদাবাজি ও প্রভাব খাটিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করার গুরুতর অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীব আটক হওয়ার পর থেকেই তাকে মুক্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তার পিতা।
গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কোনোভাবেই বিষয়টি মীমাংসা করতে না পেরে মধ্যরাত পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা, সরকারের উচ্চপর্যায় এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীর কর্ণধারদের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন এমপি মান্নান।
এমনকি যেকোনো শর্তে আপস-মীমাংসার প্রস্তাব দিয়ে পুত্রের মুক্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন বলেও জানা গেছে।
বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গাড়ি আটকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগে সজীব আটক হয়েছেন, সেই শিল্পপতির কাছেও নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে অভিযোগ প্রত্যাহারের চেষ্টা চলছে।
প্রয়োজনে সজীবকে স্থায়ীভাবে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে বলে সূত্রের দাবি।
সূত্র আরও জানায়, খাইরুল ইসলাম সজীব দীর্ঘদিন ধরেই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন এবং চাঁদাবাজিকে প্রায় পেশায় পরিণত করেন।
ফুটপাতের চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে বড় শিল্পগোষ্ঠীর মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। টাকা না দিলে পণ্যবাহী যানবাহন আটকে রাখা, দখল বাণিজ্য এবং ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চাঁদা দাবির অভিযোগে খাইরুল ইসলাম সজীবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ঢাকার মিন্টো রোডে ডিএমপির ডিবি কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, খাইরুলের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এর আগে রাজধানী থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় তাকে আটক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। বিকেলে তাকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে ঢাকায় পাঠানো হয়।
এদিকে, আটকের পরপরই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নানা অনিয়মের অভিযোগে জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে খাইরুল ইসলাম সজীবকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
স্থানীয় শিল্পকারখানার মালিক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁও ও কাঁচপুর অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাব খাটিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন সজীব। এতে ব্যবসায়ী মহলে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছিল।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো, রাজনৈতিক প্রভাবের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলা অপরাধ কর্মকাণ্ড কতটা গভীরে পৌঁছেছে এবং তা দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।









Discussion about this post