সিজারের নামে অবহেলা? সিদ্ধিরগঞ্জে নবজাতকের মৃত্যু ঘিরে চিকিৎসা ব্যবস্থার ভয়াবহ চিত্র
নগর প্রতিনিধি :
সিদ্ধিরগঞ্জে আরেকটি নবজাতকের মৃত্যু। আরেকটি অভিযোগ—ভুল চিকিৎসা।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এসব কি কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি বেসরকারি হাসপাতালগুলোর লাগামহীন অনিয়মের ধারাবাহিকতা ?
সুগন্ধ্যা হাসপাতালে গাইনী বিশেষজ্ঞ পরিচয়ে দায়িত্ব পালন করা ডাক্তার দিলরুবা আখতারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগটি শুধু একটি পরিবারের কান্না নয়—এটি আমাদের ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থার নগ্ন প্রতিচ্ছবি।
অভিযোগ অনুযায়ী, অন্তঃস্বত্তা আয়েশা আক্তারকে নির্ধারিত সময়ের আগেই সিজার করার সিদ্ধান্ত নেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক।
ফলাফল—মাত্র দেড় কেজি ওজনের অপরিণত শিশুর জন্ম, যার চোখ পর্যন্ত খোলেনি। জন্মের পরপরই জটিলতা, এরপর অন্য হাসপাতালে পাঠানো, এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু।
প্রশ্ন হচ্ছে—এই মৃত্যু কি অনিবার্য ছিল, নাকি এটি ছিল তাড়াহুড়া, অবহেলা এবং বাণিজ্যিক চিকিৎসার নির্মম পরিণতি ?
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অভিযুক্ত চিকিৎসকের পরিচয় নিয়েই তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। যিনি নিজেকে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন, বাস্তবে তিনি সেখানে কর্মরত নন—এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানেরই একজন কর্মকর্তা। তাহলে তিনি কীভাবে বছরের পর বছর এভাবে রোগী দেখিয়ে যাচ্ছেন ? কে দিয়েছে তাকে এই সুযোগ ?
এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালটির মালিক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারকে সহযোগিতা তো দূরের কথা, উল্টো তাদের উপর দায় চাপানোর অভিযোগও রয়েছে। এটি কি শুধুই দায়িত্বহীনতা, নাকি ক্ষমতার অপব্যবহার ?
চিকিৎসকের বক্তব্য—“মায়ের জীবনের ঝুঁকি ছিল, তাই আগে সিজার করা হয়েছে।”
কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—সেই সিদ্ধান্ত কি যথাযথ চিকিৎসা প্রোটোকল মেনে নেওয়া হয়েছিল ? কেন শিশুটি এত অপরিণত অবস্থায় জন্ম নিল ? কেন তার শারীরিক অবস্থা এত দুর্বল ছিল ?
বাংলাদেশে সিজারের হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার পেছনে যে বাণিজ্যিক প্রবণতা কাজ করছে, এই ঘটনাটি যেন তারই আরেকটি উদাহরণ। যেখানে রোগীর জীবন নয়, অগ্রাধিকার পায় মুনাফা।
একটি নবজাতকের মৃত্যু শুধু একটি সংখ্যা নয়।
এটি একটি সম্ভাবনার মৃত্যু, একটি পরিবারের স্বপ্নের মৃত্যু। আর সেই মৃত্যুর দায় যদি হয় অবহেলা, অযোগ্যতা বা প্রতারণা—তবে তা কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়।
এখন সময় এসেছে দায় নির্ধারণের। শুধু তদন্ত নয়, প্রয়োজন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির। না হলে এই মৃত্যুর মিছিল থামবে না—আর প্রতিদিনই কোনো না কোনো পরিবার হারাবে তাদের প্রিয়জনকে, চিকিৎসার নামে প্রতারণার শিকার হয়ে।
সিদ্ধিরগঞ্জের এই ঘটনা তাই কেবল একটি অভিযোগ নয়—এটি একটি সতর্কবার্তা।









Discussion about this post